spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

ব্রাশ নেই, ফ্লস নেই—দাঁত পরিষ্কারে প্রাণীদের যত কৌশল

জেড নিউজ ডেস্ক :   

বন্য শিম্পাঞ্জিকে কখনো কখনো ছোট কাঠি দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে খাবার বের করতে দেখা গেছে। থাইল্যান্ডের কিছু বন্য ম্যাকাকের ক্ষেত্রেও মানুষের চুল ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁক থেকে আটকে থাকা খাবার বের করার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে

সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করা মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, ফ্লস—দাঁত পরিষ্কার রাখতে আমাদের আয়োজনের শেষ নেই। কিন্তু বনের প্রাণীদের তো এসবের কিছুই নেই। তারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ব্রাশও করে না, দাঁতের ফাঁকে ফ্লসও চালায় না। তাহলে তাদের দাঁত পরিষ্কার থাকে কীভাবে?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের খাবার, জীবনযাপন আর শরীরের গঠনে। শক্ত ও আঁশযুক্ত খাবার চিবানো থেকে শুরু করে শিকারের হাড় কামড়ে ভাঙা—প্রাণীদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসই দাঁতের ওপর এক ধরনের ঘর্ষণ তৈরি করে। আবার কিছু প্রাণী দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার সরাতে নিজেরাই ছোটখাটো ‘সরঞ্জাম’ ব্যবহার করে। আবার কেউ অন্য প্রাণীর মুখে ঢুকে খাবারের অবশিষ্টাংশ খেয়ে ‘ডেন্টিস্টের’ ভূমিকাও পালন করে। আসলে দাঁতে খাবার আটকে থাকা, ময়লা জমা কিংবা ক্ষয়ের ঝুঁকি সামলাতে প্রকৃতি তাদের দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল।

কুমিরের মুখে পাখির ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কুমিরের বিশাল মুখ দেখলে কাছে যাওয়ার কথা ভাবাই কঠিন। অথচ প্লোভার গোত্রের ছোট কিছু পাখি কুমিরের খোলা মুখের ভেতরে ঢুকে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবারের টুকরো খুঁজে খায়। এতে পাখির খাবার জোটে, আর কুমিরের মুখ থেকেও কিছু অবশিষ্টাংশ সরে যায়। প্রকৃতিতে এক প্রাণীর উপকারে আরেক প্রাণীর এমন অংশীদারত্ব বেশ কৌতূহলোদ্দীপক।

সমুদ্রেও দেখা যায় একই ধরনের সম্পর্ক। ক্লিনার র‍্যাসের মতো ছোট মাছ বড় মাছ ও হাঙরের মুখের ভেতরে গিয়ে পরজীবী ও খাবারের কণা খেয়ে ফেলে। বড় প্রাণীর শরীর ও মুখ পরিষ্কার হয়, আর ছোট মাছেরও খাবারের ব্যবস্থা হয়।

বাঁশই পান্ডার টুথব্রাশ

পান্ডার প্রধান খাবার বাঁশ। দিনের বড় একটি অংশই তারা শক্ত ও আঁশযুক্ত বাঁশ চিবিয়ে কাটায়। এ অবিরাম চিবানোর সময় দাঁতের সঙ্গে বাঁশের আঁশের ঘর্ষণ হয়, যা দাঁতে আটকে থাকা কিছু খাবারের অংশ সরাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ তাদের খাবারই ব্রাশের কাজ করে।

হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, ছাগল ও খরগোশের ক্ষেত্রেও রুক্ষ ও আঁশযুক্ত খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘাস, গাছের পাতা, বাকল, ডালপালা ও অন্যান্য শক্ত উদ্ভিজ্জ খাবার দীর্ঘ সময় ধরে চিবাতে হয়। এ চিবানোর ফলে দাঁতের ওপর স্বাভাবিক ঘর্ষণ তৈরি হয়।

খরগোশের আবার দাঁত ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তাই আঁশযুক্ত উদ্ভিদ ও খড় চিবানো তাদের জন্য শুধু খাবার গ্রহণ নয়, দাঁত অতিরিক্ত বড় হয়ে যাওয়া ঠেকাতেও জরুরি।

হাড় চিবিয়েই দাঁতের পরিচর্যা

কুকুর, নেকড়ে, সিংহ ও হায়েনার খাদ্যাভ্যাস একেবারেই ভিন্ন। শিকার করা প্রাণীর মাংস ছিঁড়ে খাওয়া, চামড়া ও হাড় কামড়ে ভাঙার সময় দাঁতের ওপর শক্ত ঘর্ষণ তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়া দাঁতে আটকে থাকা কিছু খাবারের অংশ সরিয়ে দিতে পারে।

সিংহ ও নেকড়ের ক্ষেত্রে শিকারের হাড়, চামড়া ও শক্ত মাংস চিবানো তাদের দাঁতের স্বাভাবিক ব্যবহারের অংশ। হায়েনার শক্ত চোয়াল ও হাড় ভাঙার ক্ষমতাও সুপরিচিত। তাদের জন্য হাড় শুধু খাদ্যের অংশ নয়, দাঁতের ওপর এক ধরনের প্রাকৃতিক ঘর্ষণও তৈরি করে।

কমোডো ড্রাগনও শক্ত কামড়ে শিকার ছিঁড়ে খায়। এ সময় খাবারের কিছু অংশ দাঁত থেকে সরে যেতে পারে। বন্য টিকটিকি ও অন্যান্য সরীসৃপের ক্ষেত্রেও শক্ত দেহের পোকামাকড় বা ছোট শিকার চিবানো দাঁতের ওপর ঘর্ষণ তৈরি করে।

বানরের ‘ডেন্টাল ফ্লস

প্রাণীদের মধ্যে মানুষের ফ্লস ব্যবহারের সঙ্গে সবচেয়ে মিল পাওয়া যায় কিছু প্রাইমেটের আচরণে। বন্য শিম্পাঞ্জিকে কখনো কখনো ছোট কাঠি দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে খাবার বের করতে দেখা গেছে। থাইল্যান্ডের কিছু বন্য ম্যাকাকের ক্ষেত্রেও মানুষের চুল ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁক থেকে আটকে থাকা খাবার বের করার আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রাণীদের আচরণে এ ধরনের ‘যন্ত্র ব্যবহার’ তাদের অভিযোজনক্ষমতারই একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ।

পানিতে দাঁত পরিষ্কারের অন্য হিসাব

ডলফিন, সিল, কিছু দাঁতওয়ালা তিমি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্যাভ্যাস মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের অনেকেই পিচ্ছিল মাছ খায় বা শিকার প্রায় পুরোটা গিলে ফেলে। ফলে মানুষের খাবারে থাকা আঠালো শর্করা বা চিনিজাতীয় উপাদানের মতো উপাদান তাদের দাঁতে জমার সুযোগ তুলনামূলক কম।

মুখের চারপাশে সব সময় পানি চলাচল করাও দাঁতের ওপর থাকা খাবারের কণা সরাতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পানির প্রবাহকে টুথব্রাশের বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই। এসব প্রাণীরও দাঁতের রোগ হতে পারে এবং বয়স, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের ওপর তাদের দাঁতের অবস্থা নির্ভর করে।

পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্র আলাদা। গৃহপালিত কুকুর-বিড়াল কিংবা চিড়িয়াখানার প্রাণীদের দাঁতের যত্নে মানুষকে ভূমিকা নিতে হয়। পান্ডা, ঘোড়া বা ভালুকের মতো অনেক বন্দি প্রাণীর দাঁতও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়