spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

গান চুরি করে এআই প্রশিক্ষণের অভিযোগ, ‘অ্যানথ্রপিকের’ বিরুদ্ধে সনি-ওয়ার্নারের মামলা

জেড নিউজ ডেস্ক:

কপিরাইট সুরক্ষিত গান ও গানের কথা ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের অভিযোগে এআই প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিকের’ বিরুদ্ধে মামলা করেছে সনি মিউজিক ও ওয়ার্নার মিউজিকের মিউজিক পাবলিশিং শাখা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে শুক্রবার মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে সনি ও ওয়ার্নার মিউজিক বলেছে, অ্যানথ্রপিক তাদের কপিরাইট করা শত শত গান ও গানের কথা বেআইনিভাবে সংগ্রহ বা ‘পাইরেট’ করে নিজেদের এআই মডেল ‘ক্লদ’ প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। এসব গানের মধ্যে দ্য বিটলস, টেইলর সুইফট, মাইকেল জ্যাকসনসহ আরও কয়েকশ শিল্পীর গান রয়েছে।

দুই প্রতিষ্ঠান আদালতে দাবি করেছে, মানুষের বিভিন্ন নির্দেশ বা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে ক্লদকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় অ্যানথ্রপিক কপিরাইট সুরক্ষিত গানের কথা ও নোটেশন ব্যবহার করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি।

অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কপিরাইট মালিকদের চলমান আইনি লড়াইয়ের সর্বশেষ ঘটনা। এআই প্রশিক্ষণে লেখক, প্রকাশক, সংগীত প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট ব্যবহারের অভিযোগে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপও অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে মামলা করে। চলতি বছরও প্রতিষ্ঠানটি একই ধরনের অভিযোগে নতুন করে মামলা করেছে। ওই মামলাগুলো এখনও আদালতে বিচারাধীন।

গত বছর লেখকদের করা একটি কপিরাইট মামলায় অ্যানথ্রপিক প্রথমবারের মতো সমঝোতায় পৌঁছায়। লেখকদের একটি শ্রেণির করা মামলাটি নিষ্পত্তি করতে প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটি ডলার দেওয়ার সম্মতি দেয়।

তবে সনি ও ওয়ার্নার মিউজিকের অভিযোগ, ওই অর্থ অ্যানথ্রপিকের ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়। মামলার নথিতে তারা দাবি করেছে, অ্যানথ্রপিক কপিরাইট লঙ্ঘনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট ব্যবহার করে ব্যবসা গড়ে তুলেছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অ্যানথ্রপিক অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, একই আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এটি তৃতীয় মামলা, যেখানে আগের আদালত-চলমান মামলাগুলোর অভিযোগই নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, অ্যানথ্রপিক নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে রক্ষা করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কপিরাইট সুরক্ষিত উপাদান ব্যবহার ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় পড়ে। এ বিষয়ে লেখকদের মামলায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের পর্যবেক্ষণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সনি মিউজিক ও ওয়ার্নার মিউজিকের মুখপাত্র এবং তাদের আইনজীবী সোমবার এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেননি।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যানথ্রপিক টরেন্টের মাধ্যমে সনি ও ওয়ার্নারের কপিরাইট করা গানের কথা এবং সংগীতের নোটেশন সংগ্রহ করেছে। এমনকি নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে ক্লদ কপিরাইট সুরক্ষিত গানের কথা হুবহু পুনরুৎপাদন করতে পারে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।

সনি ও ওয়ার্নারের অভিযোগ, অ্যানথ্রপিক শুধু গানের কথা সংগ্রহ করেই থেমে থাকেনি; এসব কনটেন্ট ব্যবহার করে ক্লদকে বিপুল পরিমাণ তথাকথিত ‘নতুন’ এআই-নির্মিত গানের কথা তৈরি করতেও প্রশিক্ষিত করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের এআই-নির্মিত গান মূল কপিরাইটধারীদের বৈধ সৃষ্টির বিকল্প হিসেবে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এবং এতে সংগীত প্রকাশনা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মামলায় প্রতিটি কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সনি ও ওয়ার্নার মিউজিক। পাশাপাশি অ্যানথ্রপিক যাতে ভবিষ্যতে তাদের কপিরাইট সুরক্ষিত কোনো কাজ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞাও চেয়েছে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়