spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

নতুন গ্রহের সন্ধানে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার সর্বাধুনিক টেলিস্কোপ

জেড নিউজ ডেস্ক:

মহাবিশ্বের সবচেয়ে গভীর রহস্যগুলো উন্মোচনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মানবজাতি। মহাশূন্যের অন্ধকার ভেদ করে ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার এবং সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের সন্ধানে এবার মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার সর্বাধুনিক ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে চড়ে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে এই মহাকাশযানটি। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানীর সম্মানে নামকরণ করা এই টেলিস্কোপ পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে—জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের প্রতিবেশী এলাকাতেই অবস্থান নেবে।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই এবং নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যেই মিশনটি আলোর মুখ দেখেছে। তার মতে, এটি একটি নতুন মহাজাগতিক মানচিত্র তৈরি করে আমেরিকার মহাকাশ কর্মসূচির অনন্য সক্ষমতা প্রমাণ করবে।

কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই রোমান টেলিস্কোপ? নাসার তথ্যমতে, এর মূল হাতিয়ার দুটি অত্যাধুনিক যন্ত্র। প্রথমটি হলো ‘ওয়াইড ফিল্ড ইনস্ট্রুমেন্ট’ (WFI)। এটি মূলত একটি ৩০০ মেগাপিক্সেলের বিশাল ইনফ্রারেড ক্যামেরা। এর ১৮টি সেন্সর আলোর কণা ধারণ করে মহাকাশের অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্যানোরামিক ছবি তৈরি করবে। দ্বিতীয়টি হলো ‘করোনাগ্রাফ ইনস্ট্রুমেন্ট’ (CGI)। এর প্রধান কাজ হলো উজ্জ্বল নক্ষত্রের কাছাকাছি থাকা অস্পষ্ট গ্রহগুলোর (এক্সোপ্লানেট) সরাসরি ছবি তোলা এবং সেগুলোর বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করা।

রোমান টেলিস্কোপের কাজের গতি হাবল টেলিস্কোপের চেয়ে হাজার গুণ বেশি! প্রাথমিক আয়ুষ্কাল ৫ বছর হলেও, এটি ১০ বছর পর্যন্ত টিকবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের। এই দীর্ঘ সময়ে এটি কোটি কোটি গ্যালাক্সি স্ক্যান করবে। এর বিশাল তথ্যভাণ্ডার কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের মহাকর্ষীয় সূত্রগুলোও নতুন করে পরীক্ষা করবেন।

নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বকে এমন নিখুঁত চোখে আগে কখনো দেখা যায়নি; এটি সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার ভিত্তি তৈরি করে মানবজাতিকে এক নতুন যুগে প্রবেশ করাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়