জেড নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশের অতি পরিচিত একটি গাছ ‘শিল কড়ই’। বিস্ময়কর এই গাছটি চরম প্রতিকূল পরিবেশেও অনায়াসে টিকে থাকতে পারে। ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে শুরু করে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র তাপমাত্রায় যেমন এটি বেঁচে থাকে, তেমনি মিঠা ও লবণাক্ত—উভয় পরিবেশেই চমৎকারভাবে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এর। কাঠ বা সাধারণ ব্যবহারের বাইরে এই গাছটি যে আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে, তা প্রমাণ করেছে একটি নতুন গবেষণা। কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসের (কেএফইউপিএম) গবেষক ড. মো. আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী শিল কড়ই (অ্যালবিজিয়া প্রোসেরা) নিয়ে এই যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, কার্বন শোষণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় এই গাছটি অভাবনীয় অবদান রাখতে পারে।
দ্রুত বর্ধনশীল এই বহুমুখী গাছটির পাতা নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেছেন গবেষকরা। তারা দেখেছেন, শিল কড়ইয়ের পাতা থেকে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ কার্বন তৈরি করা সম্ভব, যা উন্নত মানের ‘সুপারক্যাপাসিটর’ তৈরিতে কাজে লাগে। এই ডিভাইসগুলো খুব দ্রুত চার্জ হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখে। সঠিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করলে এই কার্বন ভবিষ্যতের টেকসই ব্যাটারি ও শক্তি সঞ্চয়কারী প্রযুক্তির দারুণ এক পরিবেশবান্ধব উপাদান হয়ে উঠবে।
শুধু শক্তি সঞ্চয়ই নয়, পরিবেশ থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) শোষণেও শিল কড়ইয়ের কার্বন পাউডার চমৎকার কার্যকর। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা এই কার্বন পাউডার সিমেন্টের মিশ্রণেও ব্যবহার করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সিমেন্টে মাত্র ৩ শতাংশ শিল কড়ইয়ের কার্বন মেশালে ভবনের কাঠামোগত শক্তি ও স্থায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। একইসঙ্গে এটি পরিবেশের অতিরিক্ত কার্বন আটকে রাখতেও বড় ভূমিকা রাখে।
পাশাপাশি, গাছের এই কার্বনের সঙ্গে ম্যাঙ্গানিজ ও কোবাল্ট অক্সাইড মিশিয়ে বিজ্ঞানীরা সফলভাবে পানিকে ভেঙে পরিচ্ছন্ন ‘হাইড্রোজেন’ জ্বালানি উৎপাদনের সহজ পথও তৈরি করেছেন।
গবেষণার পাশাপাশি এই বিজ্ঞানী দলটি শিল কড়ইয়ের বহুমুখী ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ঔষধি গুণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনামূলক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। ড. আব্দুল আজিজের এই কাজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল, আধুনিক বিজ্ঞানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সবুজ পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্রে সাধারণ উদ্ভিদ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




