spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

নতুন গ্রহের সন্ধানে মহাকাশে যাচ্ছে নাসার নতুন টেলিস্কোপ

জেড নিউজ ডেস্ক:

মহাবিশ্বের দুই বড় রহস্য ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের সন্ধানে নতুন স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে নাসা। সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের খোঁজও করবে টেলিস্কোপটি। ৩০ আগস্ট এটি মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটের পর টেলিস্কোপটির উৎক্ষেপণ হতে পারে।

নাসার নতুন পর্যবেক্ষণাগারটির নাম ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পটি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে উৎক্ষেপণ করা হবে।

রোমান টেলিস্কোপ দ্রুত মহাকাশের বিশাল এলাকা জরিপ করতে পারবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন এবং সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। আইনস্টাইনের অভিকর্ষ তত্ত্বও নতুন করে পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে।

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনরি বলেন, রোমানের বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বিচিত্র, দুর্লভ ও অস্বাভাবিক মহাজাগতিক বস্তু খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

টেলিস্কোপটির মূল জরিপে ২০০ কোটির বেশি ছায়াপথ পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিজ্ঞানীরা দেখবেন, সময়ের সঙ্গে তারা, ছায়াপথ ও ছায়াপথপুঞ্জ কীভাবে গড়ে উঠেছে এবং বিবর্তিত হয়েছে।

মহাবিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ সাধারণ পদার্থ। প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি। তবে ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃত স্বরূপ এখনও অজানা।

বিজ্ঞানীরা জানতে চান, ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় কি না। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ বোঝার জন্য এ প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।

রোমান টেলিস্কোপ ‘গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং’ ব্যবহার করে আলো কীভাবে বেঁকে যায়, তা পর্যবেক্ষণ করবে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি আলোকবর্ষজুড়ে আইনস্টাইনের অভিকর্ষ তত্ত্ব কার্যকর কি না, তা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া টেলিস্কোপটি নতুন এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজবে। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৫০টির বেশি বহির্গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে। রোমান হাজার হাজার নতুন গ্রহ খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি অন্য গ্রহব্যবস্থার বিস্তারিত পরিসংখ্যান তৈরি করবে।

উৎক্ষেপণের পর টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরের ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট-২-এ যাবে। সেখানেই রয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।

রোমানের প্রাথমিক মিশন পাঁচ বছরের। তবে অতিরিক্ত আরও পাঁচ বছর কাজ করার মতো জ্বালানি থাকতে পারে। নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামেই টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়