spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

তেলাপোকার দুধ কতটা পুষ্টিকর? সাপকে পা দিয়ে চাপ দিলে কী হয়? এবারের ইগ নোবেল পেল যেসব উদ্ভট গবেষণা

জেড নিউজ ডেস্ক:

তেলাপোকার দুধ কতটা পুষ্টিকর, সাপ ঠিক কখন মানুষকে কামড়ায়, এমনকি কীভাবে নাক ঝাড়লে ভালো -এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও গবেষণা হয়। আর এমনই কিছু অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে এবারের ইগ নোবেল পুরস্কারে।

গবেষণাগার বলতেই সাধারণত মাইক্রোস্কোপ, জটিল যন্ত্রপাতি কিংবা বিজ্ঞানীদের সাদা অ্যাপ্রোনের ছবি চোখে ভাসে। কিন্তু বিজ্ঞানের জগতে এমন কিছু প্রশ্নও আছে, যা শুনলে প্রথমে হাসি পেতে পারে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা কখনো তেলাপোকার দুধ পরীক্ষা করেছেন, কখনো সাপকে আলতো করে পা দিয়ে চাপ দিয়েছেন, আবার কখনো গবেষণা করেছেন কীভাবে নাক ঝাড়লে সবচেয়ে ভালো হয়।

বৃহস্পতিবার এমনই ১০টি গবেষণাকে দেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের ইগ নোবেল পুরস্কার। পুরস্কারটির মূল দর্শন হলো এমন গবেষণাকে সামনে আনা, যা মানুষকে প্রথমে হাসায়, পরে ভাবতে বাধ্য করে।

এবারের ৩৬তম ইগ নোবেল পুরস্কার অনুষ্ঠান হয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হলো পুরস্কারটির আয়োজন। ‘অ্যানালস অব ইমপ্রোবাবল রিসার্চ’ নামের ডিজিটাল ম্যাগাজিনটি প্রতিবছর এ পুরস্কারের আয়োজন করে। এবারের অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল ছত্রাক।

তেলাপোকার দুধে কত শক্তি

এবারের রসায়ন পুরস্কার পেয়েছে তেলাপোকার দুধ নিয়ে করা একটি গবেষণা। গবেষণায় বলা হয়েছে, তেলাপোকার দুধে গরুর দুধের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি শক্তি রয়েছে। বিষয়টি শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক, গবেষণাটি ছিল বাস্তব বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের অংশ। এ কারণেই ইগ নোবেলের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে এটি।

সাপকে পা দিয়ে চাপ!

বিষধর সাপ কখন মানুষকে কামড়ায়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও বিজ্ঞানীরা বেশ অদ্ভুত পরীক্ষা চালিয়েছেন। সাপের শরীরের বিভিন্ন অংশে আলতো করে পা দিয়ে চাপ দিয়ে দেখা হয়েছে, কোন ধরনের পরিস্থিতিতে সাপটি কামড়ানোর জন্য প্ররোচিত হয়।

পুরস্কার অনুষ্ঠানে হাতে খেলনা সাপ জড়িয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন এই গবেষণার এক বিজয়ী। বিজ্ঞানকে মজার করে উপস্থাপনের ইগ নোবেলের বৈশিষ্ট্যও যেন সেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

নাক ঝাড়াও গবেষণার বিষয়

চিকিৎসা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে কীভাবে নাক ঝাড়তে হয়, তা নিয়ে করা গবেষণা। সাধারণ জীবনের একেবারে পরিচিত একটি কাজকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করাই ছিল এই গবেষণার বিশেষত্ব।

এ ছাড়া মানুষের আচরণ নিয়েও ছিল বেশ চমকপ্রদ গবেষণা। অর্থনীতি বিভাগে পুরস্কার পাওয়া এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চবিত্ত মানুষ শিশুদের জন্য রাখা মিষ্টি বেশি নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য অনৈতিক আচরণেও তুলনামূলকভাবে বেশি জড়াতে পারেন।

মশার শরীর দিয়ে থ্রিডি প্রিন্টিং

প্রযুক্তি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে আরও অদ্ভুত একটি গবেষণা। বিজ্ঞানীরা মৃত মশার শুঁড়কে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের নোজল হিসেবে ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়েছেন। ‘নেক্রোপ্রিন্টিং’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়াই এনে দিয়েছে পুরস্কার।

গবেষণাটির সহলেখক ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চ্যাংহং কাও বলেন, এই স্বীকৃতি অনুসন্ধানী চিন্তাভাবনাকে বৈধতা দিতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, কেউ মশার শরীরকে থ্রিডি প্রিন্টারের নোজল বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন না। অপ্রাসঙ্গিক মনে হওয়া বিষয়কে গভীরভাবে অনুসরণ করতে গিয়েই নতুন ধারণার জন্ম হয়।

চুম্বনের ইতিহাসও বাদ যায়নি

এবারের বায়োমেকানিক্স পুরস্কার গেছে চুম্বনের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনবিজ্ঞানী মাটিল্ডা ব্রিন্ডল ও তাঁর সহকর্মীরা অনুসন্ধান করেছেন মানুষের চুম্বনের বিবর্তনীয় ইতিহাস।

গবেষকদের ধারণা, চুম্বনের ঐতিহ্য বহু পুরোনো। এমনকি এর সঙ্গে মানুষের বিবর্তনেরও যোগ থাকতে পারে।

এ ছাড়া মাটিতে থাকা জীব কীভাবে কাপড় পচিয়ে ফেলে, তা জানতে ২৫টিরও বেশি দেশে এক হাজার জোড়া অন্তর্বাস মাটির নিচে পুঁতে গবেষণা চালানো হয়েছে। ইউরিনালে প্রস্রাবের ছিটা কমানোর পদ্ধতি নিয়েও হয়েছে গবেষণা।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মজার দৃশ্যগুলোর একটি ছিল দর্শকদের কাগজের বিমান ছোড়া। বিজয়ীদের হাতে দেওয়া হয় মাশরুম ও মানুষের পায়ের সংমিশ্রণের মতো দেখতে ট্রফি।

বিজ্ঞানী কার্লি অ্যান ইয়র্কের ভাষায়, এসব গবেষণা প্রথমে হাসায়, পরে ভাবায়। অদ্ভুত মনে হলেও এমন গবেষণাই কখনো কখনো নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। আর বিজ্ঞানের শুরু তো অনেক সময় সেখানেই—একটি অদ্ভুত প্রশ্ন থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়