spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

অফিসে এসি নিয়ে যুদ্ধ! ঠান্ডায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

জেড নিউজ, ঢাকা:

অফিসে একই ঘরে বসে কাজ করলেও সবার আরামের অনুভূতি এক হয় না। কারো এসির ঠান্ডা হাওয়া বেশ আরামদায়ক, আবার কারো কাছে সেটাই অসহ্য ঠান্ডা। অন্যদিকে কেউ আবার এসি চলার পরও গরম অনুভব করেন। ফলে তাপমাত্রা নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ থাকলে অস্বস্তির পাশাপাশি শরীরেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই এসির তাপমাত্রা নিয়ে মতের অমিল থাকলেও কীভাবে নিজেকে স্বস্তিতে ও সুরক্ষিত রাখা যায়, জেনে রাখা জরুরি।

কেন একই তাপমাত্রায় কারো ঠান্ডা, কারো গরম লাগে?
মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এক নয়। বয়স, শারীরিক গঠন, পোশাক, দৈহিক সক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে একই ঘরের তাপমাত্রাও একজনের কাছে ঠান্ডা, অন্যজনের কাছে আরামদায়ক বা গরম মনে হতে পারে। ডেস্কে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে শরীরের নড়াচড়া কম থাকায় অনেকের ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। এছাড়া এসির বাতাস সরাসরি শরীরে লাগলেও ঠান্ডা লাগার প্রবণতা বাড়তে পারে। আবার জানালার পাশে রোদ পড়া, কম বাতাস চলাচল বা একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসের তাপের কারণেও কারো বেশি গরম লাগতে পারে।

সরাসরি এসির বাতাস এড়িয়ে চলুন
এসি ভেন্টের ঠিক নিচে বা সামনে বসলে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শরীরে লাগতে পারে। সম্ভব হলে বসার জায়গা এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে বাতাস সরাসরি মুখ, ঘাড় বা শরীরে না লাগে।

হালকা গরম পোশাক রাখুন
অফিসে বাইরে থেকে গরম পরিবেশে ঢুকে এসির ঠান্ডায় অস্বস্তি হওয়া স্বাভাবিক। ডেস্কে একটি পাতলা কার্ডিগান, শাল বা জ্যাকেট রাখতে পারেন। এতে পুরো অফিসের তাপমাত্রা পরিবর্তনের বদলে নিজের আরাম অনুযায়ী পোশাক সামঞ্জস্য করা সহজ হবে।

পানি পান করতে ভুলবেন না
এসি ঘরে দীর্ঘসময় থাকলে অনেকেই পানি খাওয়ার কথা ভুলে যান। পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করুন।

একটানা বসে থাকবেন না
দীর্ঘসময় একই জায়গায় বসে থাকলে শরীরের নড়াচড়া কমে যায় এবং ঠান্ডা বেশি অনুভূত হতে পারে। কাজের ফাঁকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন বা হালকা স্ট্রেচিং করুন।

আবার অনেকের গরম লাগে
অফিসে কেউ ঠান্ডায় কাঁপছেন বলে এসির তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়িয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনই অন্যদের অস্বস্তি উপেক্ষা করে তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে রাখাও উচিত নয়। যাদের গরম লাগে, তারা সরাসরি এসির নিচে বা বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় বসতে পারেন। ভারী পোশাক এড়িয়ে আরামদায়ক পোশাক পরাও কাজে আসতে পারে। তবে বারবার অস্বাভাবিক গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো সমস্যা হলে শুধু এসির তাপমাত্রাকে দায়ী না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

তাপমাত্রা নিয়ে কীভাবে সমাধানে পৌঁছাবেন?
অফিসের এসি নিয়ে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো এক পক্ষের সুবিধার জন্য অন্য পক্ষকে অস্বস্তিতে না ফেলা। নির্দিষ্ট একটি আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক করে নেওয়া, সরাসরি বাতাসের দিক পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাকের স্তর বাড়ানো-কমানো এই তিনটি বিষয়েই অনেকটা সমাধান হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অন্যের শরীরের অনুভূতিকে ‘বাড়াবাড়ি’ বলে উড়িয়ে না দেওয়া। একই তাপমাত্রায় মানুষের অনুভূতি আলাদা হওয়া স্বাভাবিক। তাই এসির রিমোট নিয়ে টানাটানি না করে আলোচনার মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করাই ভালো, যাতে অফিসের বেশিরভাগ কর্মী স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়