জেড নিউজ , ঢাকা :
সাভার মডেল থানাধীন আমিন বাজারের বড়দেশী এলাকায় অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কের জেরে স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, আমিন বাজারের বড়দেশীর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসবি ব্রাঞ্চের ডিএমপিতে কর্মরত এসআই মো. আলতাফ হোসেনকে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সৃষ্ট মারামারির পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার বিপি নং-৬৮৮৬০৫০৬০০, এসবি আইডি নং-৬২৬৮। তার বাবার নাম জুবায়ের আলী শেখ। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার বাসিন্দা। তিনি আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের মদিনাসিটি এলাকায় স্ত্রী শিউলি পারভিন ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশেই তার মালিকানাধীন একটি ছোট গার্মেন্টস কারখানা ছিল।
শনিবার রাত ১০টার পর গাড়ি পার্কিং নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে গভীর রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল গার্মেন্টস কারখানাটি ভাঙচুর ও লুটপাট করা শুরু করে। এ সময় তিনি ও তার ছেলে বাধা দিলে তাদের উপর্যুপরি লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা সারওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই আলতাফ মারা যান, তার ছেলে আরিফ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। তার নাম জহুরুল ইসলাম (৩০), পিতা- মোসলেম উদ্দিন, মাতা রুপবানু। তিনি বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দা। ভোর সাড়ে ৪টায় আমিনবাজার টেনারি পুলিশ ফাঁড়ি ও সাভার পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক আসামি বর্তমানে সাভার মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা রুজু হয় নাই।
পুলিশের দেওয়া তথ্যনুযায়ী, ডিএমপিতে কর্মরত আলতাফ হোসেন আমিন বাজার বড়দেশী এলাকার জনৈক মো. আলামিনের বাসার ভাড়াটিয়া। একই এলাকায় ৫ শতক নিজস্ব জায়গায় তার টিনশেড বাসায় একটি কারখানায় স্বল্প পরিসরে ট্রাউজার ও গেঞ্জি তৈরি করা হয়। ওই কারখানার সামনে কারখানার মালামাল বহনকারী অজ্ঞাতনামা অটোচালকের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ওই তর্কের জেরে অটোচালক আরও ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে এসে গার্মেন্টসে ভাঙচুর ও হামলা চালায়।
এ সময় আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে মো. আরিফকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতেই আলতাফের মৃত্যু হয়। তবে তার ছেলে আরিফ চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের কারখানার সামনে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এই তর্কটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।




