spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

লংমার্চে কমল গাড়ি, শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত নিরাপত্তা চায় জামায়াত-জোট

জেড নিউজ ঢাকা:

ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য, তাতে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, লংমার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে।

ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত এই লংমার্চের যাত্রাপথ ও সমাবেশের বিস্তারিত পরিকল্পনা সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পাটওয়ারী।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে সড়কে ‘এক লাইনে’ চলবে তাদের গাড়িবহর।

লংমার্চের পুরো পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এনসিপির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা সারজিস আলম।

সংবাদ সম্মেলনের আগে এনসিপির কার্যালয়ে একটি সমন্বয় সভা হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে দলের রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাতে অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চ যাত্রায় আমরা এক লাইনে থাকব। আমরা কর্মসূচি নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। উনারা পরামর্শ দিয়েছেন।

পুলিশের পরামর্শ মেনেই কর্মসূচিতে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এমনিতেই সারাদেশের মানুষ অস্বস্তিতে রয়েছেন। বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণ ভোগান্তিতে আছেন। আমাদের লংমার্চে ভোগান্তি যেন আরও না বাড়ে, সেজন্য পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ির পরিকল্পনা থাকলেও আমরা তা এক হাজারে নামিয়ে এনেছি।

যানজটে পড়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স যেন আটকে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন এনসিপির এই নেতা।

সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কথা শুনতেই আমরা আসছি। আপনারা রাস্তার কাছে চলে আসবেন। আমরা আলোচনা করব–কীভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। রাস্তার দুপাশে মানুষ সাদরে লংমার্চকারীদের গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর মোড় ঘিরে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।

এরপর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। সকাল ৯টা নাগাদ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় প্রথম সমাবেশ হবে।

এরপর দুপুর ১২টা নাগাদ কুমিল্লার নূরজাহান হোটেলের বিপরীতে খালি জায়গায় সমাবেশ ও খাবার বিরতি হবে। বেলা ৩টা নাগাদ লংমার্চ ফেনীর মহিপালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সেখান থেকে বিকাল ৫টা নাগাদ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৌঁছে আরেকটি সমাবেশ করবেন তারা। এরপর রাত ৯টা নাগাদ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ।

পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রংপুর, সিলেট ও খুলনায় লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ জোটের।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চের পর আমরা আবার যে মানুষগুলোর কাছে গিয়েছি, তাদের সাথে নিয়ে ঢাকায় সমাবেশ করব। এই সমাবেশ থেকে সরকারের খেয়ালিপনা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে বার্তা দিয়ে আমরা দেশকে নতুন দিকে নিয়ে যাব।

জ্বালানি খরচের বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের কেউ কেউ বলেছেন, এই লংমার্চে নাকি এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। না, আমাদের হবে না। কারণ, আমাদের এখানে লাল বাসের বহর থাকবে না। আমাদের লংমার্চে গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে।

পাটওয়ারী বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে তেলগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো দিলে আমাদের লংমার্চ সুন্দর হবে। এই তেলগুলো ফেরত দিন, আমরা ন্যায্য মূল্যে কিনতে পারি, আমরা ফ্রিতে চাই না। আমরা জনগণের প্রয়োজনে লংমার্চে যাচ্ছি।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম লংমার্চের নিরাপত্তা দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ক্ষমতাসীনদের কেউ যেন হামলা করে দায় আমাদের ওপর দিতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চে আসতে আগ্রহীদের সরকারি দলের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা হুমকি এবং হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রতি ইঙ্গিত করে সারজিস বলেন, বিএনপিকে আহ্বান করব, তারা নিজেরাও বিগত সরকারের সময়ে জুলুমের শিকার হয়েছেন। একই পথ যেন তারা অবলম্বন না করে। যদি করে, তাহলে হিতে বিপরীত হবে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

গত ৬ অগাস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লংমার্চ’ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের শীর্ষ নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট (রেলপথে) লংমার্চ শেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের ৬ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জামায়াত-জোট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়