spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

ফোনের এয়ারপ্লেন মোডের যত ব্যবহার

জেড নিউজ ডেস্ক:

স্মার্টফোনের ‘এয়ারপ্লেন মোড’ নামটি শুনলেই অনেকের ধারণা হয়, উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ই কেবল এই ফিচারটির প্রয়োজন। বাস্তবে বিমানের বাইরেও দৈনন্দিন নানা পরিস্থিতিতে এয়ারপ্লেন মোড বেশ কাজে আসতে পারে।

মোবাইল নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য বেতার সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ব্যাটারি সাশ্রয়, ফোন চার্জ দেওয়ার সময় বাড়তি শক্তি খরচ কমানো কিংবা কিছু সময়ের জন্য অনলাইন জগত থেকে দূরে থাকতেও এটি ব্যবহার করা যায়।

এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে কী হয়?

এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে স্মার্টফোনের বেশ কিছু বেতার যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত মোবাইল নেটওয়ার্ক, মোবাইল ডেটা, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ নিষ্ক্রিয় থাকে। ফলে কল করা বা গ্রহণ, এসএমএস পাঠানো এবং মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।

তবে বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আলাদাভাবে সক্রিয় করা যায়। জিপিএসের ক্ষেত্রে বিষয়টি ফোনভেদে আলাদা হতে পারে। যেহেতু জিপিএস মূলত সিগন্যাল গ্রহণ করে, তাই কিছু ডিভাইসে এয়ারপ্লেন মোড চালু থাকলেও জিপিএস কাজ করতে পারে।

বিমানে কেন ব্যবহার করা হয়?

উড়োজাহাজে যাত্রার সময় ফোনের বেতার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করাই এয়ারপ্লেন মোডের মূল উদ্দেশ্য। ফোন সক্রিয় থাকলে সেটি মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। তাই বিমান চলাচলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এয়ারলাইন ও ক্রুদের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখতে বলা হয়।

আধুনিক অনেক উড়োজাহাজে ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকায় এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেও অনুমোদিত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়।

দুর্বল নেটওয়ার্কে ব্যাটারি বাঁচাতে

গ্রামাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, ভবনের বেজমেন্ট কিংবা নেটওয়ার্ক দুর্বল এমন জায়গায় স্মার্টফোনকে বারবার সিগন্যাল খুঁজতে হয়। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে এয়ারপ্লেন মোড চালু করে রাখা যায়। এতে ফোনের নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান বন্ধ থাকে এবং ব্যাটারির চার্জ কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

চার্জ দেওয়ার সময়ও কাজে আসে

ফোন চার্জে দেওয়ার সময় এয়ারপ্লেন মোড চালু করলে নেটওয়ার্ক-নির্ভর কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, সিঙ্ক ও নোটিফিকেশনের কারণে হওয়া অতিরিক্ত শক্তি খরচ কমতে পারে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ফোন তুলনামূলক দ্রুত চার্জ হতে পারে। তবে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করলে চার্জিংয়ের গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়—এমন নয়।

ডিজিটাল বিরতি নিতে

পড়াশোনা, গুরুত্বপূর্ণ কাজ, মিটিং কিংবা বিশ্রামের সময় ফোনের অনলাইন সংযোগ থেকে সাময়িক বিরতি নিতে এয়ারপ্লেন মোড বেশ কার্যকর। এটি চালু থাকলে অনলাইনভিত্তিক কল, বার্তা ও বিভিন্ন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে। ফলে কিছু সময়ের জন্য ডিজিটাল জগতের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সহজ হয়।

নেটওয়ার্কের সমস্যা সমাধানে

কখনো স্মার্টফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ না করলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য এয়ারপ্লেন মোড চালু করে আবার বন্ধ করে দেখা যেতে পারে। এতে ফোনের বেতার সংযোগগুলো নতুন করে নেটওয়ার্ক খোঁজার সুযোগ পায় এবং অনেক সময় সংযোগ ফিরে আসতে পারে। তবে স্থায়ী বা বড় ধরনের নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান হিসেবে এটিকে ধরা যাবে না।

রোমিংয়ের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে

বিদেশ ভ্রমণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত মোবাইল ডেটা ব্যবহার ও রোমিং চার্জ এড়াতেও এয়ারপ্লেন মোড উপকারী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে এই মোড ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে এয়ারপ্লেন মোড চালু রেখেই পরে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ আলাদাভাবে সক্রিয় করা সম্ভব। অর্থাৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রেখেও প্রয়োজনীয় ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ সংযোগ ব্যবহার করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়