spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

যে কারণে মানুষ চাইলেই নবী হতে পারবে না

জেড নিউজ ডেস্ক :

পার্থিব জীবনে নবুয়ত মানবজাতির প্রতি আল্লাহর সবচেয়ে বড় দান। আল্লাহ এই দান ও অনুগ্রহের জন্য যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন।

নবী ও রাসুল হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো ভূমিকা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এরাই তারা, নবীদের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, আদমের বংশ থেকে ও যাদেরকে আমি নুহের সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম এবং ইবরাহিম ও ইসমাইলের বংশোদ্ভূত ও যাদেরকে আমি পথনির্দেশ করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৫৮)
আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা সাদি বলেন, নবুয়ত ও রিসালাত আল্লাহর এমন দান যার সমতুল্য কোনো দান গত হয়নি, এমন অনুগ্রহ যার সমতুল্য কোনো অনুগ্রহ আগামীতেও আসবে না। আল্লাহ সুরা ফাতিহায় আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমরা যেন এসব অনুগ্রহপ্রাপ্তদের পথের দিশা প্রার্থনা করি।

(তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা-৪৯৬)
নবী ও রাসুলরা মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত। তাঁরা জন্মের সময় থেকেই মনোনীত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৬) শৈশবে ইউসুফ (আ.) যখন স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্ররাজি তাঁকে সিজদা করছে, তখন ইয়াকুব (আ.) তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলেছিলেন তুমি নবী হবে, তোমাকে মানুষের জন্য মনোনীত করা হবে।

(তাফসিরে শাওকানি : ৩/৭)
আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দানের সময় বলেছিলেন, ‘তিনি বলেন, হে মুসা! আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও বাক্যালাপ দ্বারা মানুষের জন্য মনোনীত করেছিল। সুতরাং আমি যা দিলাম তা গ্রহণ কোরো এবং কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৪৪)

আল্লামা শাওকানি (রহ.) আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, আয়াতে ব্যবহৃত ইসতিফা শব্দটি যাচাই করা ও মনোনীত করার অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ আমার রিসালাতের জন্য আমি সমকালীন মানুষের ভেতর তোমাকে মনোনীত করলাম। আয়াতে বাক্য দ্বারা বাক্যালাপ উদ্দেশ্য।

আল্লাহ মুসা (আ.)-কে রিসালাত ও কোনো মাধ্যম ছাড়া কথা বলার মাধ্যমে সম্মানিত করেছিলেন। (তাফসিরে শাওকানি : ২/২৭৮)
সাধারণ মানুষের দায়িত্ব হলো, আল্লাহ যাকে নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন তার আনুগত্য করা। নবী-রাসুলের আনুগত্য না করে অন্তরে নবুয়ত লাভের আকাঙ্ক্ষা অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। পবিত্র কোরআনে কুরাইশ নেতাদের এমন আকাঙ্ক্ষার নিন্দা করে বলা হয়েছে, ‘এবং তারা বলে, এই কোরআন কেন অবতীর্ণ করা হলো না দুই জনপদের কোনো প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর? তারা কি তোমার প্রতিপালকের করুণা বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি পার্থিব জীবনে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩১-৩২)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, আয়াতে তোমার প্রতিপালকের করুণা দ্বারা উদ্দেশ্য নবুয়ত। অর্থাৎ তারা নবুয়ত বণ্টন করে যে, যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেবে? আমিই পৃথিবীতে একজনকে ধনী অন্যজনকে দরিদ্র্য করি। যখন তারা পার্থিব জীবনের বিষয়গুলোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন তাদের ওপর নবুয়ত প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা সম্ভব কিভাবে? (তাফসিরে কুরতুবি : ১৬/৮৩)

আকাঙ্ক্ষা, আগ্রহ বা দীর্ঘ সাধনার মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। আল্লামা সাফফারিনি (রহ.) বলেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশ্বাস হলো, চেষ্টা, সাধনা, ইবাদত, কঠোর আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক মাধুর্য ইত্যাদির মাধ্যমে নবুয়ত লাভ করা সম্ভব নয়। নবুয়ত ও রিসালাত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন তাঁর চিরন্তন জ্ঞান ও ইচ্ছার মাফিক। (লাওয়ামিউল আনওয়ারিল বাহিয়্যাতি : ২/২৬৭)

এটাও মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ কখনো কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে নবী বা রাসুল মনোনীত করেননি। এই মহান ঐশী দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যার আছে তিনি নবী বা রাসুল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। শায়খ আবদুর রাজ্জাক আফিফি (রহ.) বলেন, এটা যুক্তি ও বুদ্ধির আলোকে অসম্ভব নয় যে অনুগ্রহকারী ও কল্যাণকারী আল্লাহ তাঁর কতিপয় বান্দাকে দান ও অনুগ্রহের জন্য বিশেষায়িত করবেন; তিনি তা করবেন সেই বান্দার চিন্তার প্রশস্ততা, দুনিয়াবিমুখতা, পূর্ণ ধৈর্য, উত্তম নেতৃত্ব, চারিত্রিক পূতঃপবিত্রতার কারণে।

যেন বান্দা নবুয়তের বিপদ সহ্য করতে পারেন, যেন তিনি অদৃশ্য বিষয়গুলো তাদের সামনে স্পষ্ট করতে পারেন, তাদের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিষয়গুলো বর্ণনা করেন, মানবজাতি ও পৃথিবীর কল্যাণগুলো তুলে ধরতে পারেন। মহান আল্লাহ নবী-রাসুলদের মনোনীত করেছেন জগত্গুলোর জন্য অনুগ্রহস্বরূপ, অবিশ্বাসীদের অক্ষমতাস্বরূপ এবং সমগ্র মানবের জন্য দলিলস্বরূপ। (মুজাক্কিরাতুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা ৪৪)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়