জেড নিউজ ডেস্ক:
দক্ষিণ কোরিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, উৎপাদন থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত কাগজের স্ট্রর জীবনচক্রে ক্যানসারসংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রভাব প্রচলিত প্লাস্টিকের স্ট্রর চেয়ে বেশি। তবে এই হিসাব স্ট্র দিয়ে পানীয় পানকারীদের ক্যানসারের ঝুঁকি বোঝায় না। গবেষকেরা শুধু বিকল্প উপাদানে যাওয়ার পরিবর্তে একবার ব্যবহারযোগ্য স্ট্রর সামগ্রিক ব্যবহার কমানোর সুপারিশ করেছেন।
দেশটির জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গবেষণাটি করা হয়। পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা কিম উই-সাং ২১ অক্টোবর গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেন।
গবেষণায় পানীয় পানের চার ধরনের স্ট্র তুলনা করা হয়েছে। এগুলো হলো প্রচলিত প্লাস্টিক, কাগজ, জীবাণুর মাধ্যমে পচনশীল প্লাস্টিক এবং উদ্ভিদজাত কাঁচামালে তৈরি পলিইথিলিন বা বায়ো-পিই।
উৎপাদন, ব্যবহার ও নিষ্পত্তির সময় নির্গত পদার্থের ভিত্তিতে একটি মডেল ব্যবহার করে সম্ভাব্য প্রভাব হিসাব করা হয়েছে। এতে প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় কাগজের স্ট্রর ক্যানসারসংশ্লিষ্ট প্রভাব ৬ দশমিক ৩৩ গুণ পাওয়া যায়। বায়ো-পিইর ক্ষেত্রে এই প্রভাব সর্বোচ্চ, ১৬ দশমিক ১৮ গুণ। পচনশীল প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে তা ৩ দশমিক ৩৪ গুণ। বায়ো-পিই আখের মতো উদ্ভিদজাত উৎস থেকে তৈরি হলেও রাসায়নিকভাবে প্রচলিত পলিইথিলিনের মতোই। এটি জীবাণুর মাধ্যমে পচে না। ফলে বায়ো-পিই ও পচনশীল প্লাস্টিক এক ধরনের উপাদান নয়।
বর্জ্য কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয়, সেই বিষয়ও মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। জাতীয় বর্জ্য পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে গবেষকেরা ধরে নিয়েছেন, ব্যবহৃত স্ট্রর ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। বাকি ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ যায় বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থানে।
কিমের মতে, অকার্যকর বিকল্পকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে তুলে ধরার নীতির ব্যর্থতা সরকারের স্বীকার করা উচিত। নীতিতে গুরুত্ব দিতে হবে একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্যের সামগ্রিক ব্যবহার কমানোয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ছোট আকারের কারণে সব ধরনের স্ট্র বাছাই করে পুনর্ব্যবহার করা কঠিন। আবরণ ও আঠা সমস্যাটি বাড়ায়। তাই শুধু প্লাস্টিকের স্ট্র নিষিদ্ধ না করে, ক্রেতা চাইলে তবেই একবার ব্যবহারযোগ্য স্ট্র দেওয়ার সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।





