spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

জেড নিউজ ডেস্ক : 

বিশ্বজাহানে যা কিছু আছে, সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। মানুষ ক্ষণিকের জন্য সেগুলোর পাহাদার মাত্র।

পৃথিবীর সম্পদ ভোগ করার অধিকার মানুষের আছে, কিন্তু তা ধ্বংস করার অবাধ অধিকার কারো নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে বনি আদম, তোমরা প্রতি সালাতে তোমাদের বেশভূষা গ্রহণ করো এবং খাও, পান করো ও অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ কেবল সামাজিক সচেতনতা নয়; বরং সহিহ নিয়তে করলে তা মহান আল্লাহর ইবাদতের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কারণ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা মানুষের নৈতিকতা, ধর্মীয় দায়িত্ব ও পরকালীন জবাবদিহির সঙ্গেও সম্পর্কিত। কারণ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর জমিনে শান্তি স্থাপনের পর তোমরা সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না, আর আল্লাহকে ভয় ও আশার সঙ্গে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর অনুগ্রহ মুহসিনদের খুব নিকটে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৫৬)
এই আয়াতে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশ-প্রকৃতি নষ্ট করাও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির আওতায় পড়ে। কারণ নদীদূষণ, অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন জলাশয়ে মেশানো, অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহারে মাটির ক্ষতি করা কিংবা অবৈধভাবে বনভূমি ধ্বংস করার ফলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ যখন হালাল-হারামের তোয়াক্কা করে না, আল্লাহকে ভয় করে না, তখনই তারা নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে দুনিয়ায় এ ধরনের ফ্যাসাদ সৃষ্টিতে নেমে পড়ে।
মুমিনের জন্য এমন ক্ষতিকারক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে দুটি জিনিস মনে রেখেছি।তিনি (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বস্তুর প্রতি সদয় আচরণ করা ফরজ করেছেন। (নাসায়ি, হাদিস : ৪৪০৫)
এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের ওপর অহেতুক অত্যাচার করা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব বিষয়ে সীমা লঙ্ঘনের সুযোগ নেই; বরং ইসলাম প্রকৃতির কল্যাণে কাজ করাতেও পরোকালীন উপকারের বিধান রেখেছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যেকোনো মুসলিম ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোনো ফসল ফলায় আর তা থেকে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায়, তবে তা তার পক্ষ থেকে সদকা বলে গণ্য হবে। (বুখারি, হাদিস : ২৩২০)

এ হাদিসে উপকারভোগী হিসেবে শুধু মানুষ নয়; বরং পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কাজের কল্যাণ মানুষের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য জীবের কাছেও পৌঁছতে পারে এবং তাতে সওয়াবের আশা করা যায়। (সুবহানাল্লাহ)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে তার ভীষণ পিপাসা লাগল। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর সে বের হয়ে দেখতে পেল যে একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটারও আমার মতো পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে মুখ দিয়ে সেটি ধরে ওপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তাআলা তার আমল কবুল করলেন এবং আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই পুণ্য রয়েছে। (বুখারি, হাদিস : ২৩৬৩)

তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের নিরাপত্তা বা জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণের সব ব্যবস্থাই নিষিদ্ধ; বরং প্রাণীর প্রতি অকারণে নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রত্যেক মুমিনের উচিত ইবাদতের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখা। অপ্রয়োজনে পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় না করা, বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা, গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করা, জলাশয় দূষণ থেকে বিরত থাকা এবং পরিবেশের ক্ষতি করে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে সচেতনতা তৈরি করা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এসব কাজ মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতির কল্যাণে কাজ করাও এক ধরনের ইবাদত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুন। আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়