জেড নিউজ, ঢাকা:
কর্মক্ষেত্রে নানান ধরনের মানুষের সঙ্গে কাজ করেন। কেউ খুব মিশুকে, হাস্যোজ্জ্বল, আবার কেউ আছেন খুব গম্ভীর, কিংবা অল্পতেই রেগে যান। অফিসে এমন সহকর্মী নিশ্চয়ই দেখেছেন, যিনি সামান্য বিষয়েই বিরক্ত হন, কথায় কথায় অভিযোগ করেন কিংবা অন্যের ভালো কাজেও খুশি হতে পারেন না। কখনো তার মেজাজ খারাপের প্রভাব পড়ে পুরো দলের ওপর। আবার কখনো কাজের চাপ, ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা কিংবা ভুল বোঝাবুঝি থেকেও এমন আচরণ তৈরি হতে পারে।
সহকর্মীর এমন খিটখিটে মেজাজের বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিবছর ২৭ অক্টোবর পালিত হয় ক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে। দিবসটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত একটি মজার দিবস। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা বা কর্মক্ষেত্রে বিবাদ বাড়ানো নয়। বরং অফিসের পরিচিত বিরক্তিকর পরিস্থিতিগুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে দেখা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা মনে করিয়ে দেওয়া। এই ব্যতিক্রমী দিবসের প্রচলনের কৃতিত্ব দেওয়া হয় থমাস রয় ও রুথ রয় দম্পতিকে।
তারা তাদের প্রতিষ্ঠান ওয়েলক্যাট হলিডিজের মাধ্যমে সারা বছর নানা বিচিত্র দিবস উদযাপনের ধারণা জনপ্রিয় করেন। ক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে-ও সেই ধরনের একটি দিবস। তবে দিবসটির সূচনার নির্দিষ্ট সাল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সহজে পাওয়া যায় না। তারা মূলত অফিসের সবাইকে কাজের মাঝে একটা মজা করার সু্যোগ করে দিতেই এমন সব দিবসের আয়োজন করেছিলেন। যা পরবর্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দিবসটি উদযাপনের ধরনও বেশ সহজ। অফিসের পরিচিত বিরক্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মজা করা, হালকা রসিকতা কিংবা একসঙ্গে কফি খেতে খেতে কাজের চাপ নিয়ে কথা বলা এসবের মাধ্যমেই দিনটি পালন করা যায়। তবে রসিকতা যেন কাউকে ছোট করা, অপমান করা বা কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরির কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
আপনার যে সহকর্মীর আচরণ এমন তাকে তার মতো করে বুঝুন। এই স্বভাব হয়তো তার আগে থেকে ছিল না। পারিবারিক, অফিসের চাপ কিংবা অন্য কারণেও এমন হতে পারে। আসুন কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক যা আপনি একজন সহকর্মী হিসেবে কী করতে পারেন-আপনার অনেক কিছুই করার আছে এখানে। যেমন প্রথমেই ব্যাপারটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। কেউ সব সময় বিরক্তি প্রকাশ করলে মনে হতে পারে, তার রাগের কারণ আপনি। কিন্তু সব সময় তা সত্যি নয়। কাজের চাপ, সময়সীমা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা অন্য কোনো দুশ্চিন্তা তার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি বিরূপ মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন।
সহকর্মী রেগে কথা বললে পাল্টা রেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বরং শান্তভাবে কথা বলুন। আলোচনা করতে পারেন। তবে শান্ত থাকার অর্থ অন্যায় আচরণ মেনে নেওয়া নয়। কোনো সহকর্মী বারবার অপমানজনক মন্তব্য করলে বা অসম্মানজনক আচরণ করলে ভদ্রভাবে নিজের আপত্তি জানান। ভুল বোঝাবুঝি থেকেও কর্মক্ষেত্রে বিরক্তি বাড়তে পারে। তাই দায়িত্ব, সময়সীমা ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্টভাবে কথা বলুন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা কাজের নির্দেশনা লিখিতভাবে রাখলে পরবর্তী সময়ে অযথা দোষারোপের আশঙ্কাও কমে।
সব সময় নেতিবাচক দিক নিয়ে কথা না বলে সহকর্মীর ভালো কাজের প্রশংসা করুন। আন্তরিক ধন্যবাদ কিংবা সহযোগিতার স্বীকৃতি সম্পর্কের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সমস্যা গুরুতর হলে যেমন ধরুন-কোনো সহকর্মীর আচরণ নিয়মিত অপমান, হুমকি, হয়রানি কিংবা কাজের পরিবেশ নষ্ট করার পর্যায়ে পৌঁছালে বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মানবসম্পদ বিভাগের সাহায্য নিন।
হাসির ছলে কাটুক কর্মদিবসক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে মনে করিয়ে দেয়, কর্মক্ষেত্রে সবার মেজাজ সব দিন এক রকম থাকে না। তাই সহানুভূতি, ধৈর্য ও স্পষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক ছোটখাটো সমস্যা সামলানো সম্ভব। তবে সুস্থ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখার গুরুত্বও সমান। দিনটি উপলক্ষে সহকর্মীদের সঙ্গে একটু হাসুন, প্রয়োজনে এক কাপ চা ভাগ করে নিন তবে কারো বিরক্তিকে নিয়ে এমন রসিকতা করবেন না, যাতে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
দিবসটি শুধু মাত্র মজার ছলেই এসেছে। তাই এটিকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং মজা করুন। চাইলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মজা করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখুন এতে যেন কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু বলা না হয়। দিনশেষে কর্মস্থল এবং সহকর্মীরা আপনার জীবনের একটি অংশ। পরিবারের পরে যেখানে আপনি সবচেয়ে বেশি সময় কাটান।





