spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

হিজরত করেও আবু জাহেলের ষড়যন্ত্রে বন্দি হন যে সাহাবি

জেড নিউজ ডেস্ক : 

বিশিষ্ট সাহাবি আয়াশ ইবনে আবি রাবিআহ (রা.) ছিলেন কুরাইশ বংশের বনু মাখজুম গোত্রের একজন সাহাবি। তার পিতা আবু রাবিআহ আমর ইবনে মুগিরাহ এবং মাতা আসমা বিনতে মুখাররিবাহ।

আবু জাহেল ছিল তার নিকটাত্মীয়। আত্মীয়তার এই সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে আয়াশ (রা.)-এর জীবনে এক মর্মান্তিক ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন মক্কার প্রভাবশালী নেতারা মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতের বিরোধিতায় নানা কৌশল অবলম্বন করছিলেন, তখন আয়াশ (রা.) সত্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ঈমানের পথে অবিচল থাকেন।
মক্কায় মুসলমানদের ওপর নির্যাতন যখন ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছিল, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনায় সাহাবিরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মদিনায় হিজরত করতে থাকেন।

আয়াশ (রা.) তাদেরই একজন। তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। জন্মভূমি, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অজানা ভবিষ্যতের পথে যাত্রা করা সহজ ছিল না। কিন্তু ঈমানের দাবি পূরণে তারা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও পার্থিব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন।

কিন্তু হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর পরও আয়াশ (রা.)-এর বিপদ শেষ হয়নি। তাকে মক্কায় ফিরিয়ে আনার জন্য আবু জাহেল একটি কৌশল অবলম্বন করে। সে আয়াশের আরেক আত্মীয় হারিস ইবনে হিশামকে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় যায়। সেখানে তারা আয়াশকে জানান, তার মা ছেলের বিচ্ছেদে গভীরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি শপথ করেছেন, আয়াশ ফিরে না আসা পর্যন্ত চুল আঁচড়াবেন না এবং ছায়ায় আশ্রয় নেবেন না।

মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কর্তব্যবোধ আয়াশ (রা.)-এর হৃদয়কে নাড়া দেয়। তিনি মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ওমর (রা.) তাকে সতর্ক করে বলেন, আবু জাহেল ও হারিসের কথায় প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আয়াশকে মদিনা ছেড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু মায়ের প্রতি গভীর টানের কারণে আয়াশ (রা.) নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তখন ওমর (রা.) তাকে একটি শক্তিশালী উট দিয়ে বলেন, বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে যেন সেটিতে চড়ে পালিয়ে আসতে পারেন।

মক্কার পথে যাত্রাকালে আবু জাহেল কৌশলে আয়াশ (রা.)-কে নিজের উটের পেছনে বসতে অনুরোধ করেন। নিজের উট দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমন অজুহাত দেখিয়ে তিনি আয়াশের সহযোগিতা চান। সরল বিশ্বাসে আয়াশ উট থেকে নামতেই আবু জাহেল ও হারিস তাকে বেঁধে ফেলেন। এরপর তাকে মক্কায় নিয়ে বন্দি করা হয়। যে আত্মীয়েরা মায়ের অসুস্থতার কথা বলে তার আবেগকে স্পর্শ করেছিলেন, তারাই তাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন।

ইসলামের জন্য জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেও তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল মক্কার বন্দিত্বে। নিজেরই নিকটাত্মীয় আবু জাহেলের ষড়যন্ত্রে বন্দি হওয়ার এই ঘটনা ইসলামের প্রাথমিক যুগের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়