জেড নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলে পৌঁছানোর পর থেকে টানা কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশযান মার্স ওডিসি। ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর মঙ্গলে পৌঁছায় মহাকাশযানটি।
দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এবার এটি মহাকাশ গবেষণায় প্রযুক্তির স্থায়িত্ব ও সক্ষমতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মার্স ওডিসির পাশাপাশি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে নাসার আরেক মহাকাশযান মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটার (এমআরও)। শুরুতে দুটি মহাকাশযানকেই মাত্র কয়েক বছর কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে সেগুলো।
দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের ফলে মঙ্গল সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে, গ্রহটিতে অতীতে ও বর্তমানে পানির অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করা তথ্য মঙ্গলের ভূমির গঠন ও পরিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরো স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। ফলে মঙ্গলকে এখন শুধু প্রাণহীন পাথুরে গ্রহ হিসেবে দেখা হয় না।
বরং এর পরিবেশ ও ভূমিতে সময়ের সঙ্গে নানা পরিবর্তন ঘটে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহবিজ্ঞানী ব্রায়নি হর্গান মঙ্গল গবেষণায় এই দুই মহাকাশযানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। নাসার মঙ্গল অভিযানগুলোর জন্য মার্স ওডিসি ও এমআরওকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। মঙ্গলে বরফের উপস্থিতি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মার্স ওডিসি। এর মাধ্যমে গ্রহটির জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সম্পর্কে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
অন্যদিকে, মঙ্গলের পৃষ্ঠে সময়ের সঙ্গে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, তা পর্যবেক্ষণ করেছে এমআরও। এর সংগ্রহ করা তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, কিভাবে গ্রহটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে। মঙ্গলে নাসার বিভিন্ন রোবটযান পাঠিয়ে গবেষণা চালানো হয়। এসব রোবটযান সরাসরি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। তাই সেগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানোর কাজে মার্স ওডিসি ও এমআরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই দুই মহাকাশযানসহ অন্য মহাকাশযানগুলোর সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা মঙ্গল গবেষণাকে আরো কার্যকর করেছে। মহাকাশে দীর্ঘদিন কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। মার্স ওডিসি ও এমআরওর দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের পেছনে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি, প্রকৌশলীদের দক্ষতা, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং কিছুটা সৌভাগ্য। মহাকাশে উচ্চশক্তির বিভিন্ন কণা রয়েছে, যা মহাকাশযানের সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলা করেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে মহাকাশযানগুলোকে।
পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। কিন্তু মঙ্গলে থাকা মহাকাশযানের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি কঠিন। অনেক সময় সপ্তাহে মাত্র এক বা দুইবার সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসের গ্রহ ও মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞানী রব লিলিস বলেন, মঙ্গলে থাকা একটি মহাকাশযানকে বেশির ভাগ সময় নিজে নিজেই কাজ চালিয়ে যেতে হয়।
মার্স ওডিসি ও এমআরওর দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর মঙ্গল অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের কারো কারো মনে প্রশ্ন উঠেছে, এই দুই মহাকাশযানের মাধ্যমেই কি মঙ্গল গবেষণার একটি যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে? প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। এতে লাল গ্রহটি অনুসন্ধান ও গবেষণার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে ভবিষ্যতের অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মার্স ওডিসি ও মার্স রিকনাইস্যান্স অরবিটারের দীর্ঘদিনের সাফল্য মঙ্গলসহ মহাকাশের অন্যান্য অংশ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





