জেড নিউজ ডেস্ক:
পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল ধূমকেতুর মাধ্যমে—এমন জনপ্রিয় বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিলিয়ন বিলিয়ন বছর আগে বরফে ঢাকা ধূমকেতুগুলো যখন পৃথিবীতে আঘাত হানে, তখন এদের মাধ্যমে আসা প্রাণের সূক্ষ্ম অণুগুলো সেই আঘাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা।
যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এক কৃত্রিম গবেষণায় বা সিমুলেশনে দেখা যায়, ধূমকেতুগুলো এত দ্রুতগতিতে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ত যে, প্রচণ্ড তাপ ও চাপে সেগুলোর ভেতরে থাকা প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় অণুগুলো অক্ষত অবস্থায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব ছিল। বিজ্ঞানীরা মূলত ‘হাইড্রোজেন সায়ানাইড’ বা এইচসিএন নামের একটি রাসায়নিক পদার্থের ওপর মনোযোগ দিয়েছিলেন, যা প্রাণের অন্যতম প্রধান উপাদান। কিন্তু গবেষণা বলছে, ধূমকেতুর মাধ্যমে এইচসিএন পৃথিবীতে এলেও তা আছড়ে পড়ার সময় ধ্বংস হয়ে যেত অথবা সাগরের পানিতে দ্রুত গলে যেত।
ধূমকেতু প্রাণের উপাদান না এনে থাকলে এর বিকল্প হিসেবে গ্রহাণুর কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, গ্রহাণুগুলো পৃথিবীতে অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে আঘাত হেনেছিল, তাই এগুলোতে থাকা উপাদানগুলো টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সম্প্রতি বেন্নু ও রিউগু নামের গ্রহাণুর নমুনাতেও প্রোটিন তৈরির উপাদান পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, পৃথিবীর চেয়ে মঙ্গলে ধূমকেতুর মাধ্যমে প্রাণের উপাদান পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি ছিল। কারণ মঙ্গলের আকার ছোট হওয়ায় এবং সূর্যের থেকে দূরে থাকায় সেখানে ধূমকেতুর আঘাতের গতি কম ছিল। তবে কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন, এই গবেষণার পরও ধূমকেতুর ভূমিকার বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা উচিত হবে না, কারণ এগুলো হয়তো অন্য কোনোভাবে প্রাণের উপাদান সরবরাহে সাহায্য করেছিল।





