জেড নিউজ ডেস্ক :
ভবিষ্যতে লাল গ্রহ মঙ্গলে মানুষের প্রথম অভিযানের পথ সুগম করতে নজিরবিহীন এক গবেষণায় যুক্ত ছিলেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার চার বিজ্ঞানী ও গবেষক। বাইরে থাকা পৃথিবীর সঙ্গে বাস্তব যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন রেখে কৃত্রিমভাবে তৈরি মঙ্গল গ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে টানা ৩৭৮ দিন কাটানোর পর অবশেষে বাস্তব জগতে ফিরে এসেছেন তাঁরা।
নাসার হিউস্টনভিত্তিক জনসন স্পেস সেন্টারে থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি ‘মার্স ডিউন আলফা’ নামের প্রায় ১ হাজার ৭০০ বর্গফুটের বিশেষ আবাসস্থলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ‘চাপিয়া’ নামের এ প্রকল্পের আওতায় দলটির নেতৃত্ব দেন কেলি হাস্টন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রস এলগার্ট, নাথান জোন্স ও অঙ্কিত বেভানিয়া।
টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চার গবেষক পুরোপুরি মঙ্গল গ্রহের বাস্তবতায় জীবনযাপন করেছেন। তাঁরা সাধারণ খাবারের বদলে প্যাকেটজাত মহাকাশচারীদের খাদ্য গ্রহণ করেছেন, নিজেদের শাকসবজি চাষ করেছেন এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় থেকেছেন। লাল গ্রহের ধূলিঝড়, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিশেষ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি স্যুট পরে ‘মার্সওয়াক’ বা কৃত্রিম মঙ্গলের মাটিতে হেঁটে নমুনা সংগ্রহের মহড়াও দিয়েছেন তাঁরা।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যোগাযোগ- পৃথিবীর কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তাঁদের বার্তার আদান-প্রদানে মঙ্গলের দূরত্বের সমান ২২ মিনিটের কৃত্রিম বিলম্ব রাখা হতো, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতেও তাৎক্ষণিক কোনো মানবিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ ছিল না।
অভিযান সফলভাবে শেষ করে দরজা খুলে বাইরে আসতেই উপস্থিত সহকর্মী ও পরিবার-পরিজন তাঁদের করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার ছাড়া এমন চরম একাকীত্ব, মানসিক চাপ ও সীমিত রসদের মধ্যে মানুষের শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন কেমন হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন নাসার বিশেষজ্ঞরা। এ চার জনের রক্ত, লালা, ঘুম ও মানসিক ভারসাম্যের ডেটা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন ও ২০৩০-এর দশকে মঙ্গলে প্রথম মানববাহী মিশনের চূড়ান্ত রূপরেখা সাজাবে নাসা। সূত্র : জে এন।




