জেড নিউজ ডেস্ক :
দেশের ভোগ্যপণ্য বাজারজাতে শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে বাঁচাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রুপটি খেলাপি হলেও নেয়া হয়েছে নতুন করে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ। এজন্য সিটি গ্রুপের পাঁচ খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) হিসেবে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সরবরাহে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারা স্থগিত করা হয়েছে। সিন্ডিকেটেড এই ঋণে নেতৃত্ব দেবে সিটি ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণ পায় না। তবে এ সংক্রান্ত ধারাটি সিটি ব্যাংকের অনুকূলে এক বছরের জন্য স্থগিত করে বুধবার (৪ নভেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট ধারাটি গ্রুপটির জন্য আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে নতুন করে ঋণ পেতে সিটি গ্রুপের আর কোনো সমস্যা হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকে গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভায় শিল্পগ্রুপটি যাতে তাদের সমস্যা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনতফসিলের সুবিধা দেওয়ার পরামর্শ উঠে আসে। পাশাপাশি ব্যবসা চালাতে গ্রুপটিকে প্রয়োজনীয় মূলধনের জোগান দিতে ঋণদাতা ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি জোট গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় এই বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ঋণদাতা কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণ পায় না। তবে এ সংক্রান্ত ধারাটি সিটি ব্যাংকের অনুকূলে এক বছরের জন্য স্থগিত করে বুধবার (৪ নভেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট ধারাটি গ্রুপটির জন্য আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে নতুন করে ঋণ পেতে সিটি গ্রুপের আর কোনো সমস্যা হবে না।
এর আগে সিটি গ্রুপের ঋণকে এখনই খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত না করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রুপটির ঋণ খেলাপি ঘোষণা না করার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এবার আইনের ধারা স্থগিত করে ঋণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রুপটির কাছে ৪৩ ব্যাংকের পাওনা ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা এরই মধ্যে প্রায় খেলাপি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি গ্রুপের ঋণখেলাপি হয়ে পড়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেড, সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি এডিবল অয়েল, সিটি ডাল মিলস ও শম্পা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের অনুকূলে তিন হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সুবিধা দিতে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে গঠন হতে যাওয়া সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের জন্য ব্যাংক কোম্পানী আইনের ধারাটি কার্যকর হবে না।
তবে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ঋণ-সুবিধার বিপরীতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে সিটি ব্যাংক বা সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না। প্রস্তাবিত ঋণ সুবিধার বিপরীতে যুক্তিসঙ্গত জামানত নিশ্চিতে সিটি গ্রুপ তাদের অন্য কোনো ঋণ বা দায়ে আবদ্ধ নয় এমন সম্পত্তি রেজিস্টার্ড মর্টগেজ হিসেবে জমা রাখবে। সিন্ডিকেটেড ঋণের টাকায় কেনা পণ্য বিক্রয় করে যে টাকা পাওয়া যাবে, তা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে সিন্ডিকেটেড ঋণ সুবিধা দেয়া ব্যাংকগুলোর পাওনা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে।





