জেড নিউজ ডেস্ক:
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জেরে ব্রিটেনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতির পথে যাচ্ছে ইসরায়েলের। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ব্রিটেনের বিরুদ্ধে একাধিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া, গাজা সমন্বয় মিশন থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করা।
একই সঙ্গে ১২ জন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথাও জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ঘোষণা দেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাজ্য।
বসতি সম্প্রসারণ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও রিয়েল এস্টেটের মতো খাতে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডন।
মিলিব্যান্ড বলেন, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করা এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাগুলো আগামী ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে কার্যকর হতে পারে।
ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে গিদিয়ন সার বলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি মিলিব্যান্ডের ইসরায়েলবিরোধী অভিযোগকে ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের বিরোধ বাড়ছে। জুনে যুক্তরাজ্য অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে মিলে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় অর্থায়ন ও সহায়তাকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পর ইসরায়েল-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও তীব্র কূটনৈতিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ফ্রান্স ও কানাডাও পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।



