spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

জেড নিউজ ডেস্ক:

আজ শনিবার ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চায় বিএনপি। সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার সামনে আনতে চায় দলটি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি যাতে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিতে কিংবা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেই বার্তাও দিতে চায় বিএনপি।

ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাণীতে ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি সেই রাজনৈতিক বার্তারই প্রতিফলন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপির কাছে এবারের ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তাই শুধু অতীত স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়। ঐতিহাসিক দিবসটির চেতনাকে বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকারে রূপ দিতে চায় দলটি।

এবার দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় দিন এবং দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।

যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ইতিহাসের বাঁকে ৭ নভেম্বর

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ওই সময় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দেশজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বন্দি হন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। চার দিনের মাথায় ৭ নভেম্বর সেনা সদস্যদের বিদ্রোহ ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি পান।

সেদিনের ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকাও আলোচনায় আসে। বিশেষ করে কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন জাসদের গণবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসে রয়েছে নানা বিশ্লেষণ। ওই ঘটনার পর দেশের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।

বিএনপি দিবসটিকে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে মূল্যায়ন করে। দলটির মতে, এটি ছিল জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংহতি রক্ষায় জনগণের সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফিরেছে দিবস

দীর্ঘ বিরতির পর এবার সরকারি ছুটি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। অতীতে বিভিন্ন সময় দিবসটির সরকারি ছুটি চালু ও বাতিল হয়েছে। বিএনপি সরকারের সময় ছুটি পুনর্বহাল হলেও পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি।

২০২৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সরকারি ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে এবারের আয়োজন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

সাত দিনের কর্মসূচি

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর সাত দিন সারা দেশে কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। আজ শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন রাজনৈতিক যে বার্তা দিতে চায় বিএনপি

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব স্বকীয়তা এবং জাতি হিসেবে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেটাকে প্রতিহত করার জন্য এবং দেশের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ গৃহবন্দি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিল। তখন তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থনে সেনা ছাউনি থেকে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে একত্রে শহীদ জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় সেদিন ধরে রেখেছিলেন।”

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের ধারাবাহিকতায়, অতীতে বাংলাদেশে যে ধরনের ভুল হয়েছে, সেই ধরনের ভুল বা সেই ধরনের কোনো প্রতারণার মধ্যে কেউ যাতে ফের না পড়ে, এ ব্যাপারে জাতিকে সজাগ করার জন্য ক্রমাগত কাজ করতে হবে। দলের পক্ষ থেকেও এটা বিএনপির দায়িত্ব। আর সরকারের পক্ষ থেকেও এই বাণী ছড়িয়ে দেওয়া দায়িত্ব। ২০২৪ সালের চেতনা যেভাবে মিলে যায় ১৯৭১ সালের চেতনার সঙ্গে, তেমনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনার সঙ্গেও মিলে যায়। এটাই নতুন রাজনৈতিক বার্তা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়