২৩/০৫/২০২৬, ২০:১২ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার: প্রধানমন্ত্রী

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    মিরপুরের শিশুকন্যা রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

    শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে জাতীয় কবির অমর স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন হয়নি। প্রায় দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরববোধ করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ কিংবা বরণ করতে না পারি এটি তাদের নয় জাতি হিসেবে আমাদেরই দৈনতা প্রকাশ পায়। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একটি র্যালিতে অংশ নিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

    ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এভাবে জাতীয় কবির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে , কাউকে সম্মান জানালে নিজের সম্মান নষ্ট হয়না বরং বিনয় মানুষকে মহিমান্বিত করে। আমি মনে করি, এইসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই বতর্মানে আমাদের সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান।

    তারেক রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন,পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে। বিপ্লব বিদ্রোহ কিংবা রণ-সঙ্গীত, ইসলামী তাহজীব তমদ্দুন কিংবা ইসলামী মূল্যবোধের গান, অথবা ভজন-কীর্তন কিংবা শ্যামা সংগীত, প্রেম প্রকৃতি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ, কৈশোরের আনন্দ কিংবা যৌবনের উম্মাদনা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশ। কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনিই কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন, কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ও আত্মিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ। তিনি ছিলেন নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার এক অনন্য ফেরিওয়ালা। এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান কালের সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে জাগরুক হয়ে আছেন। থাকবেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন,  দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার আর দেশের অর্থ সম্পদই লুন্ঠন করেনি। বিচার বিভাগসহ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে যেটি বড়ো ক্ষতি হয়েছে  বিশেষ করে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদের সময়  মানবতা মানবিকতা এবং দেশে আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে একেবারেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে একটি নিস্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রমান মিলেছে।

    একটি নিরাপদ মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে, একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রেও কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক।

    তিনি উল্লেখ করেন, কবি নজরুলের জীবন এবং কর্ম বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে আরো বেশি ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।  তাঁর জীবনবোধ তাঁর জীবন দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম পৌঁছে দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া যায় কিনা এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি আহবান জানান।

    বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি,

    আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে!ফেলি। সবার আগে বাংলাদেশ’কে ধারণ করি।

    একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য নিজেদের নিবেদিত করার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী কবি নজরুল জন্মজয়ন্তীর তিনদিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান প্রমুখ।

    এছাড়া নজরুল মঞ্চের সামনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়