টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগের প্রতি ৮ জন বাসিন্দার মধ্যে ১ জনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সঙ্কট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাক্ষেত্রে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বিভাগটিতে কর্মরত ব্র্যাকের ২৬ হাজার ৯০০জন কর্মী এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছেন, এদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই নারী। এই বিভাগে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১০৫১টি কার্যালয় এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৮৬টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
ঢাকা বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। একই আয়োজনে, ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি এককভাবে টাঙ্গাইল জেলারও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইল জেলা সদরের উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন ব্র্যাকের চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বাস করতেন, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাঝেই নিজস্ব ও সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব। ব্র্যাক এই পরিবেশ তৈরিতেই কাজ করে। উনি মৃত্যুর পূর্বে ব্র্যাকের জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়ে গিয়েছেন। সেটি হল ২০৩০ সাল নাগাদ ২৫ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো। উনার এই স্বপ্ন ও চেতনাকে ধারণ করেই আমরা এগিয়ে চলছি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। তিনি বলেন, ব্র্যাক বাংলাদেশের পাশাপাশি সারাবিশ্বেই সুনাম অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মকান্ডের মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা এবং আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। তবে, দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষদের জন্য ব্র্যাককে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, বিগত ৫০ বছরে ব্র্যাক পুরো বাংলাদেশকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের (Inclusive Development) আওতায় নিয়ে এসেছে। এমনকি দেশের বাইরেও তারা এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সফলভাবে অব্যাহত রেখেছে। এর পাশাপাশি, তিনি নতুন প্রজন্মের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে আরও ভূমিকা রাখতে তিনি ব্র্যাককে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো: আদিবুল ইসলাম , পি পি এম – সেবা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো: সেলিম মিঞা, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান সহ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২০২৫ সালে ঢাকা বিভাগে ১৭ হাজার ৯০৯টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৭২৫টি পরিবার সফলভাবে অতিদারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৬ জন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে আর্থিক সেবার আওতায় এসেছেন ঢাকা বিভাগের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ঋণগ্রহীতার মাঝে প্রায় ৮৬ শতাংশই নারী।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক বার্তার আওতায় এসেছেন ৩ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই বিভাগেই ১ লাখের বেশি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়েছে, এবং ২৫ হাজার ৪৭৫টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৯০ হাজার ২৮৮ জন। একইভাবে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা, নারী ও পুরুষের সমঅধিকারসহ নানা কর্মসূচির তথ্য জানানো হয়।
টাঙ্গাইল জেলার বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন টাঙ্গাইলবাসী কোনো না কোনোভাবে ব্র্যাকের সহায়তার আওতায় এসেছে। শুধুমাত্র টাঙ্গাইল জেলায় ৫১১টি সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির অফিস ও ৩টি সামাজিক উদ্যোগের অফিসে ১ হাজার ২৫৫ জন ব্র্যাক কর্মী কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়াও এ জেলার ৩ লাখ মানুষ ব্র্যাকের আর্থিক সেবা ও সচেতনতামূলক সহায়তা পেয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক বার্তার আওতায় এসেছেন ১৮ হাজার ৭৬৮জন। এছাড়াও, ৭০ হাজারও অধিক মানুষ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতা, মনোসামাজিক সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন।



