১৩/০৫/২০২৬, ১৭:০৭ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহে ৪ জনের মৃত্যু, আহত আরও ৯

    জেড নিউজ ডেস্ক:

    গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি কুকুরের কামড়ে মাত্র এক সপ্তাহে নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত রয়েছেন নারী ও শিশুসহ আরও ৯ জন। তাদের মধ্যে ওই এলাকার সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৯) নামে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই ঘটনায় একের পর এক মৃত্যুর কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আহতদের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে পুরো গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ।

    মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সর্বশেষ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আফরুজা বেগম (৪০)। গত ২২ এপ্রিল থেকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে কুকুরটি প্রায় ১৩ জনকে কামড় দিয়েছে।

    মৃত আফরোজা বেগম উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে (বাদ জোহর) তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

    মৃত বাকি তিনজন হলেন, কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), একই গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২) ও রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)। তাদের মধ্যে রতনেশ্বর বর্মণ পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোকা বর্মণের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রী। ঘটনার দিন বজরা কঞ্চিবাড়ি এলাকায় কাজে এসে কুকুরের কামড়ের শিকার হন রতনেশ্বর।

    এছাড়া আহতরা হলেন, ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ ব্যাপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন।

    একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার স্বাক্ষরিত এক তথ্য বিবরণীতে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তথ্য বিবরণীটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তাজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, যারা মারা গেছেন ইতোমধ্যে তিনজনের পরিবারকে ত্রাণ ও দুর্যোগের যে সহায়তা সেটা দেওয়া হয়েছে। আহতদেরও দেওয়া হবে।

    গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান জানান, কুকুর ঠেকানোর দায়িত্ব প্রাণিসম্পদের। এ বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরে কামড়ের পর কেউই চিকিৎসা নিতে যাননি। সেখানে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল।

    গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা করবে। যেসব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আমাদেরতো ভ্যাকসিন নেই।

    রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান (এমপিএইচ) বলেন, জানা দরকার তারা সঠিক সময়ে এবং ঠিকমতো ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা। এটা জাস্টিফাই করা দরকার। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। ভ্যাকসিনের বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয় দেখেন। তাদের টিমও আছে। ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ কিংবা কার্যকারিতা ছিল কি-না সেটাও দেখা দরকার।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়