জেড নিউজ , ঢাকা :
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের দু:সশাসনে দেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় চলে যায়। সেসময় অনিয়ম, লুটপাট, অর্থপাচার ও ভুল অর্থনৈতিক নীতিই ছিলো তাদের মূলনীতি। এরপর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে কাজ শুরু করে পরবর্তী সরকার। এরমধ্যেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে তার সরকার প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করে।
এই সময়ে রাজস্ব আয় আশানুরূপ না হওয়ায় সরকারকে ঋণ করে চলতে হচ্ছে। তবে সংকটের মধ্যেও নতুন সরকারের সময়োপযোগী কিছু পদক্ষেপে অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) গত এপ্রিলে ১ দশমিক ১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪ দশমিক ৬-এ দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের গতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও উৎপাদন খাতে উন্নতি হয়েছে। সামনে ঈদুল আজহা থাকায় বাজারে লেনদেন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া দীর্ঘ আট মাস পর দেশের রফতানি আয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারের রফতানি হয়েছে। একই সময়ে প্রবাসীরা প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আসায় ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স-প্রবাহ বৃদ্ধি, রফতানি আয় স্থিতিশীল এবং আমদানি ব্যয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমছে এবং ডলারের বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।



