জেড নিউজ ডেস্ক :
সাধারণত দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় হয় এবং এটি একটি ধ্রুব সত্য। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, মানুষের যাপিত জীবন আর পরিবেশের ওপর আমাদের হস্তক্ষেপ এখন আর কেবল তাপমাত্রা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আক্ষরিক অর্থেই পুরো পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিকে মন্থর করে দিচ্ছে। সহজ কথায়, আমরা অজান্তেই প্রিয় গ্রহটির ঘোরার ছন্দ বদলে দিচ্ছি, যার ফলে পৃথিবীর দিনগুলো আগের চেয়ে দীর্ঘতর হয়ে উঠছে!
সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বিশালাকার হিমবাহ এবং বরফের চাদর গলে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর ভরের একটি বড় অংশ মেরু থেকে বিষুবরেখার দিকে সরে আসছে। এই ভর-পুনর্বণ্টন পৃথিবীকে তার মধ্যভাগে আরো কিছুটা স্ফীত করে তুলছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বিশাল বরফের পাহাড়গুলো আশঙ্কাজনক হারে গলছে। এই বিপুল পরিমাণ পানি এখন মেরু অঞ্চল থেকে সরে এসে পৃথিবীর মাঝখানের অংশ বা বিষুবরেখার দিকে জমা হচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর ভরের যে পরিবর্তন ঘটছে, তা গ্রহটির ঘূর্ণন গতিকে কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টিকে অনেকটা একজন ‘আইস স্কেটারের’ সাথে তুলনা করা যায়। তিনি যখন নিজের হাত শরীরের সাথে গুটিয়ে রাখেন, তখন খুব দ্রুত ঘুরতে পারেন; কিন্তু হাত দু’টি দুই পাশে প্রসারিত করলেই তার ঘোরার গতি কমে যায়। ঠিক একইভাবে, পৃথিবীর মাঝখানের অংশ ভারী হয়ে যাওয়ায় এটি আগের চেয়ে ধীরে ঘুরছে।
দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ার এই প্রভাব আপাতদৃষ্টিতে খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল বিশ্বে এর গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি নিখুঁত সময় বা ন্যানোসেকেন্ডের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সময়ের এই সূক্ষ্মতম পরিবর্তনের ফলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বা মহাকাশ গবেষণার যানগুলো দিক হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই পরিবর্তনের হার এতই বেশি ছিল যে তা প্রাকৃতিকভাবে দিন বড় হওয়ার কারণ ‘চাঁদের আকর্ষণ’কেও ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।



