০৫/০৫/২০২৬, ১৪:৫৩ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    বার্সেলোনা চিড়িয়াখানায় বয়স্ক প্রাণীদের জন্য পাঁচতারকা সেবা

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    বয়স বাড়লেই কি আরামের দিন শেষ? বার্সেলোনা চিড়িয়াখানা বলছে, ‘না!’ এখানে বয়স্ক হাতি থেকে শুরু করে ফ্ল্যামিঙ্গো পর্যন্ত সবাই পাচ্ছে পাঁচ-তারকা সেবা। তাই বলে ভাববেন না এটা কোনো বুড়োবুড়ির আড্ডাখানা। জীবনের শেষ লগ্নে থাকা প্রাণীদের যত্নে রাখার মিশনে নেমেছে চিড়িয়াখানাটি।

    দৃশ্যটা কল্পনা করুন। ৪০ বছর বয়সী আফ্রিকান হাতি বুলি তার বিশাল পা এগিয়ে দিচ্ছে। আর চিড়িয়াখানার কর্মী জোসে মারিয়া সান্তামারিয়া তাকে দিচ্ছেন পেডিকিউর! শুধু তাই নয়, পুরস্কার হিসেবে মুখে গুঁজে দেয়া হচ্ছে রসালো আপেলের টুকরো। আরেক প্রবীণ হাতি ৫২ বছরের সুসি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বন্দি হাতিদের একটি। তার জন্যও রয়েছে এই রাজকীয় সেবা। বয়স্ক দুই বান্ধবী এখন বার্সেলোনার চিড়িয়াখানায় বেশ আরামেই দিন কাটাচ্ছে।

    কিন্তু গল্পে একটু মোচড় আছে। এই দুই হাতি সম্প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইয়োয়োকে হারিয়েছে। গত ডিসেম্বরে ৫৪ বছর বয়সী ইয়োয়োর মৃত্যুতে সুসি আর বুলি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। যদিও এখন তারা একে অপরের সঙ্গে খুব মিষ্টি বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছে। এমনকি খাবারও ভাগাভাগি করে খাচ্ছে! বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিলে চিড়িয়াখানাটি এই দুই হাতির শোক কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছে।

    তবে শুধু হাতিই নয়, বার্সেলোনা চিড়িয়াখানায় ১৫ বছরের একটি নেকড়ে ও ১৭ বছরের চিতাবাঘও আছে। তারা সবাই পাচ্ছে বিশেষ যত্ন। আর ফ্ল্যামিঙ্গোদের একটা পুরো দল তো রীতিমতো ‘সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব’ গড়ে ফেলেছে। এদের জন্য রয়েছে নরম খাবার, নিয়মিত হেলথ চেকআপ ও আরামদায়ক বাসস্থান। এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখা হচ্ছে।

    চিড়িয়াখানার ম্যামাল কেয়ার প্রধান পিলার প্যাডিলা বলেন, ‘এই প্রাণীদের বনে ছেড়ে দেয়া মানে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া। তাই আমরা তাদের শেষ জীবনটা যেন আরামে কাটে, সেটাই নিশ্চিত করছি।’ আর এই যত্নের কারণেই সুসি-বুলির মতো প্রাণীরা এখন বালির নরম মাটিতে হাঁটছে, দাঁতহীন মুখে নরম খাবার চিবোচ্ছে, আর পেডিকিউরের আরামে গদগদ হচ্ছে।

    ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ জুজ অ্যান্ড অ্যাকোয়ারিয়ামসের সিইও মার্টিন জর্ডান বলেন, ‘এটা ঠিক মানুষের মতোই। বয়স বাড়লে একটু বাড়তি যত্ন লাগে। আমরা চাই আমাদের প্রাণীরা শুধু বাঁচুকই না, বরং যত্নের সঙ্গে জীবনযাপন করুক।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়