২৬/০৬/২০২৬, ৩:২৩ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    কী হয়েছিল চুরি হওয়া ৫০ কোটি ডলারের শিল্পকর্মের?

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    শিল্পরসিকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ইসাবেলা স্টুয়ার্ট গার্ডনার মিউজিয়াম বেশ পরিচিত নাম। এর পেছনে রয়েছে আলোচিত এক রহস্য। ১৯৯০ সালে জাদুঘরটি থেকে চুরি হয় ১৩টি শিল্পকর্ম, যেগুলোর হদিস এখনো অজানাই রয়ে গেছে। বর্তমান বাজারমূল্যে ৫০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এসব শিল্পকর্মের চুরি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্ট হাইস্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

    ২০১৩ সালে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানায়, তারা চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পেরেছে। তবে সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ না করায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য ও জল্পনা থেকেই যায়।

    তদন্তের নেতৃত্ব দেয়া প্রাক্তন এফবিআই কর্মকর্তা জিওফ্রে কেলি তার ‘‌থার্টিন পারফেক্ট ফিউজিটিভস’ বইয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত জানিয়েছেন কীভাবে তদন্তকারীরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বইয়ে তিনি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ্যে এনেছেন। বইটিতে কেলি উল্লেখ করেছেন, কীভাবে শিল্পকর্মগুলো অপরাধী চক্রের মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে এবং মূল সন্দেহভাজন ও সাক্ষীরা সহিংস মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিনের প্রচলিত অনেক তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নতুনভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

    ঘটনার আরেকটি আলোচিত দিক হলো জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা ইসাবেলা স্টুয়ার্ট গার্ডনারের উইল। ওই নথিতে ইসাবেলা লিখে গিয়েছিলেন যে তার মৃত্যুর পর এ স্থাপত্য ঘরানার ভবনের কোনো কিছুই পরিবর্তন করা যাবে না। ১৯২৪ সালে মারা যাওয়া গার্ডনার চেয়েছিলেন তার সাজানো পেইন্টিং, ভাস্কর্য এবং স্থাপত্যের টুকরোগুলো যেন ঠিক সেভাবেই থাকে। সেই নির্দেশনার কারণেই আজো জাদুঘরের দেয়ালে চুরি হওয়া পেইন্টিংগুলোর খালি ফ্রেম ঝুলে আছে।

    চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধারে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৫০ লাখ ডলার এবং পরে তা বাড়িয়ে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। তদন্তের খাতিরে কেলি ফ্রান্স পর্যন্ত পাড়ি জমান। সেখানে এফবিআই এজেন্টরা ছদ্মবেশে ফরাসি অপরাধী চক্রকে ধরার চেষ্টা করেন। নিউ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং তথ্যদাতাদের থেকে সাহায্য নেয়া হয়। তবে আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি বা বোস্টনের কুখ্যাত মাফিয়াদের দিকে আঙুল তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সূত্রই শিল্পকর্মগুলোর হদিস দিতে পারেনি ।

    তদন্তে ববি ডোনাটি ও জর্জ রেইসফেল্ডার নামে দুই ব্যক্তির নাম উঠে আসে। ডোনাটি ১৯৯১ সালে নিহত হন এবং রেইসফেল্ডার সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। রেইসফেল্ডারের ভাই চুরি হওয়া একটি পেইন্টিং দেখে স্বীকার করেন যে তিনি ভাইয়ের বিছানার ওপর শিল্পকর্মটি ঝুলতে দেখেছিলেন।

    কেলি মনে করেন, ওই সময় লজিস্টিকসের অভাব এবং ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের মতো কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সিকিউরিটি গার্ড রিক অ্যাবাথের আচরণও সন্দেহজনক ছিল, কিন্তু আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ২০২৪ সালে মারা যান।

    কেলি তার বইয়ে চুরি হওয়া শিল্পকর্মগুলোকে ‘নিখুঁত পলাতক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, এসব শিল্পকর্ম প্রকাশ্যে বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব, কিন্তু সেগুলো এখনো কোথাও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। একদিন সেগুলো আবারো জনসমক্ষে ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়