জেড নিউজ , ঢাকা :
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত জাবের (রা.)- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার বনু সালামার লোকেরা মসজিদের কাছাকাছি স্থানে নিজেদের বসবাসস্থল স্থানান্তর করার ইচ্ছা করে। এ সংবাদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি, তোমরা স্থান পরিবর্তন করে মসজিদের কাছাকাছি আসার ইচ্ছা করছ? তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, জি-হ্যাঁ।
আমরা তো এটা করার ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেন, হে বনু সালামাহ, তোমাদের বাড়ি যেখানে আছে, সেখানে রাখো। কেননা, তোমাদের পায়ের কদমের সাওয়াব লিখে রাখা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৪৫৬৬)
শিক্ষা ও বিধান
১. বনু সালামার লোকেরা মসজিদের কাছে বসতি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন, যাতে মসজিদে সহজে আসা-যাওয়া করতে পারেন।
এতে বোঝা যায়, মসজিদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক রাখা এবং সেখানে বেশি বেশি যাওয়ার আগ্রহ প্রশংসনীয়।
২. নেক কাজের জন্য কষ্ট স্বীকার করলে সওয়াব মেলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের দূরে থাকার কষ্টকে ক্ষতি হিসেবে দেখেননি; বরং সেই দূরত্ব অতিক্রম করে মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপকে সওয়াবের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৩. আল্লাহর ঘরের দিকে বান্দার প্রতিটি কদম আল্লাহর কাছে মূল্যবান।
যত বেশি পথ অতিক্রম করে বান্দা ইবাদতের জন্য যায়, তার আমলনামায় তত বেশি সওয়াব লেখা হয়।
৪. দূরত্ব সবসময় অসুবিধা নয়; কখনো তা সওয়াবের সুযোগ। আমরা অনেক সময় মসজিদ দূরে হওয়াকে শুধু কষ্ট হিসেবে দেখি। অথচ একজন মুমিনের দৃষ্টিতে এই পথই হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
৫. মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য নিয়মিত হাঁটতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
এটি মুসলিম জীবনে জামাতের গুরুত্বও প্রকাশ করে।
৬. আল্লাহ বান্দার সামান্য পরিশ্রমও নষ্ট করেন না। মানুষের চোখে কয়েক কদম হাঁটা তুচ্ছ বিষয় হতে পারে; কিন্তু আল্লাহর কাছে ইবাদতের উদ্দেশ্যে হাঁটা মূল্যবান আমল। এটি আল্লাহর অসীম দয়া ও নেক আমলের প্রতি তাঁর প্রতিদানের শিক্ষা দেয়।
অতএব, ইবাদতের পথে কষ্ট মানেই ক্ষতি নয়; সেই কষ্টই অনেক সময় সওয়াবের সবচেয়ে বড় সুযোগ। তাই মসজিদ যদি কিছুটা দূরেও হয়, অলসতা না করে আল্লাহর ঘরের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ আমাদের প্রতিটি কদম হয়তো পৃথিবীর মানুষের কাছে সাধারণ, কিন্তু আল্লাহর কাছে তা আমলনামায় লেখা একটি মূল্যবান নেকি।





