spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

তালাকের কথা শুনে ক্ষিপ্ত শিপন, স্ত্রীসহ শাশুড়িকে হত্যা করে

জেড নিউজ, ঢাকা:

ঢাকার কলাবাগানের আল-আমিন রোডে মেয়ের জামাই শিপনের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৪) ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাত্রী (২১)।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কয়েক বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ফারজানা ও শিপন।

তাদের সংসারে প্রায় এক বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এখন শিশুটি মাকে হারিয়েছে, নানিকেও হারিয়েছে।

নিহত ফিরোজা বেগমের ছেলে সন্তান থাকলেও ফারজানাই ছিলেন তার একমাত্র মেয়ে। শিশুটির কোনো খালাও নেই।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে করা হত্যা মামলায় জামাই শিপনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যতটুকু শুনেছি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকত।

ঘটনার আগেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিলে শিপন দুজনকেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শোনা যাচ্ছে, শিপন ছুরি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করেছিল। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এটি প্রমাণিত হলে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার উদ্দেশ্যেই সে সেখানে গিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।

কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিজা আক্তার দুটি লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যরা লাশের নিয়ে যান। মা-মেয়ের দাফন শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে হওয়ার কথা রয়েছে।

এসআই লিজা আক্তার জানান, দুটি লাশের মুখমণ্ডল, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আনুমানিক ১০ থেকে ১২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, পিকআপচালক শিপন স্ত্রীকে নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন। সন্তান জন্মের পর থেকেই সাংসারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি আরও বেড়ে যায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইতেন না। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঝগড়া হলে দুজনই নিজেদের অবস্থানে অটল থাকতেন। স্ত্রী মনে করতেন তার কথাই ঠিক, আবার স্বামীও মনে করতেন তার কথাই ঠিক এবং স্ত্রী তাকে যথাযথ সম্মান করেন না। এসব বিষয় নিয়েই তাদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত স্বামী-স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনায় পরকীয়া বা সন্দেহের বিষয় সামনে আসে। কিন্তু শিপন ও ফারজানার ক্ষেত্রে এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও বিশ্বাস ছিল। পরকীয়া বা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুজনের মধ্যে কোনো সন্দেহ ছিল না। অল্প বয়সেই প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন ফারজানা, তবে তার স্বামীর বয়স সঠিক ছিল।

জানা যায়, পিকআপচালক শিপনের আয়-রোজগার কম হওয়াসহ বিভিন্ন সাংসারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া হতো।

গ্রেপ্তার শিপনের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে তিনি আল-আমিন রোডের মসজিদের পাশে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে, শাশুড়ি মেয়ের পক্ষ নিয়ে জামাইকে বকাঝকা করে বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে তুমি সবসময় ঝগড়া করো। আমার মেয়ে আর তোমার কাছে থাকবে না, তোমাকে তালাক দেবে।

এ কথা শোনার পর শিপন আরও উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী ফারজানাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এসময় মেয়েকে বাঁচাতে গেলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ফারজানা ও তার মাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে, সেখানে তিনিও মারা যায়।

রোববার সকাল ৮টার দিকে কলাবাগান থানাধীন কাঠালবাগান আল-আমিন মসজিদ রোডের ৫২/২ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় ফারজানার বাবা-মায়ের বাসায় এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটে।

ঘাতক শিপনের শ্বশুর ফল বিক্রেতা ফারুক হোসেন ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার তার স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার তার ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বিয়ের আগের দিন শিপন সেখানে যান। বিয়ের দিন সকালে দম্পতি ফারজানা ও শিপনের মধ্যে ঝগড়া হলে শিপন খাওয়া-দাওয়া না করেই ঢাকায় চলে আসেন।

তিনি আরও জানান, শনিবার রাতে তিনি, তার স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে কাঠালবাগানের বাসায় ফেরেন।

রোববার সকালে তিনি বাইরে থাকাকালে শিপন বাসায় এসে আবারও ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শিপন তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শিপন-ফারজানা দম্পতির এক বছর বয়সি ছেলে রায়হানকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে শিপন নিজে পুলিশের কাছে গিয়ে ধরা দেন।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ঝগড়ার একপর্যায়ে শিপন রান্নাঘর থেকে ধারালো সবজি কাটার ছুরি এনে প্রথমে স্ত্রী ফারজানাকে আঘাত করে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়