জেড নিউজ ডেস্ক :
বিটলজুসের ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৬ থেকে ১৯ গুণ বেশি। এর ব্যাস সূর্যের প্রায় ৭৫০ থেকে ৮৫০ গুণ। নক্ষত্রটি সূর্যের চেয়ে প্রায় এক লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল
রাতের আকাশের অন্যতম উজ্জ্বল ও রহস্যময় নক্ষত্র ‘বিটলজুস’ একা নয়। দীর্ঘদিনের ধারণা সত্য প্রমাণ করে এর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা একটি সঙ্গী নক্ষত্রের সরাসরি ছবি তুলেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। চিলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো নিশ্চিতভাবে প্রমাণ মিলল, বিটলজুস একটি যুগ্ম নক্ষত্রব্যবস্থার অংশ।
ওরায়ন নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত বিটলজুস একটি বিশাল লাল অতিদানব নক্ষত্র। ভারতীয় বা সংস্কৃত জ্যোতির্বিদ্যায় এটিকে আর্দ্রা নামে অভিহিত করা হয়। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ আলোকবর্ষ। নক্ষত্রটি কখনো উজ্জ্বল, আবার কখনো তুলনামূলক ম্লান হয়ে যায়। এ অস্বাভাবিক আচরণ এবং সম্ভাব্য সুপারনোভা বিস্ফোরণের কারণে শত শত বছর ধরে এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।
বিটলজুসের ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৬ থেকে ১৯ গুণ বেশি। এর ব্যাস সূর্যের প্রায় ৭৫০ থেকে ৮৫০ গুণ। নক্ষত্রটি সূর্যের চেয়ে প্রায় এক লাখ গুণ বেশি উজ্জ্বল। এটি এত বিশাল যে সৌরজগতে সূর্যের জায়গায় বিটলজুসকে বসানো হলে এর পৃষ্ঠ বৃহস্পতির কক্ষপথও ছাড়িয়ে যেত।
নতুন শনাক্ত সঙ্গী নক্ষত্রটিও আকারে ছোট নয়। এর ভর সূর্যের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ থেকে ৩ দশমিক ১ গুণ বেশি এবং ব্যাস সূর্যের প্রায় ১ দশমিক ৮ থেকে দ্বিগুণ। এর উজ্জ্বলতা সূর্যের সর্বোচ্চ ৯২ গুণ হতে পারে। দুই নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব সূর্য থেকে শনির কক্ষপথের দূরত্বের কাছাকাছি। এটি পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের প্রায় ৮ দশমিক ৮ গুণ।
নতুন গবেষণার প্রধান লেখক ও প্যারিস অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী মিগুয়েল মন্টারজেস বলেন, বিটলজুস ইতিহাসজুড়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এমনকি প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকর্মেও নক্ষত্রটির উপস্থিতি দেখা যায়। তা সত্ত্বেও এর একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য—একটি সঙ্গী নক্ষত্র থাকা এত দিন অজানা ছিল।
প্রায় এক শতাব্দী ধরেই বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করছিলেন, বিটলজুসের একটি সঙ্গী থাকতে পারে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণায় এর পক্ষে শক্তিশালী পরোক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়। তবে নতুন পর্যবেক্ষণই প্রথম স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শনাক্তকরণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, বিটলজুসের মতো অধিক ভরের নক্ষত্র সাধারণত একা গঠিত হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো যুগ্ম বা একাধিক নক্ষত্রের ব্যবস্থায় অবস্থান করে। তবে বিটলজুসের সঙ্গী এত দিন সরাসরি শনাক্ত করা যায়নি, কারণ মূল নক্ষত্রটির বিপুল উজ্জ্বলতায় অপেক্ষাকৃত অনুজ্জ্বল সঙ্গীটি আড়ালে ছিল।
বিটলজুসের বয়স প্রায় এক কোটি বছর। সে তুলনায় সূর্যের বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। বিপুল ভরের নক্ষত্র দ্রুত জ্বালানি শেষ করে বলে বিটলজুস এখন জীবনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং একসময় সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হবে বলে ধারণা করা হয়।
আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, আগামী ১০ হাজার থেকে এক লাখ বছরের মধ্যে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে সঙ্গী নক্ষত্রটির উপস্থিতি সেই হিসাবকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। দুই নক্ষত্রের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বিটলজুসের বিস্ফোরণ বিলম্বিতও করতে পারে, আবার ত্বরান্বিতও করতে পারে। ফলে বিটলজুস ঠিক কখন বিস্ফোরিত হবে, তা এখন আরো বড় রহস্যে পরিণত হয়েছে।





