জেড নিউজ, ঢাকা :
মানুষের কর্মনৈপুণ্যের প্রত্যাশিত অনুষঙ্গ; যোগ্য সহকর্মী, সহযোগী। মহান আল্লাহ ও মুসা (আ.)-এর কথোপকথন—(মুসা বললেন) আমার আপনজনদের মধ্য থেকে আমার সহযোগিতাকারী বানাও, হারুন আমার ভাই, তার দ্বারা তুমি আমার শক্তি বৃদ্ধি করো, তাকে আমার কাজের অংশীদার বানাও…।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ২৯- ৩৪)
কর্মবিমুখতা, পরমুখাপেক্ষিতা বা ভোগবাদিতা নয়; বরং শ্রমই ছিল নবী-রাসুলদের আদর্শ।
সৃষ্টির সেরা জীব কখনো অপদার্থ হতে পারে না—‘অবশ্যই আমি আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং তাদের জলে ও স্থলে প্রতিষ্ঠিত করেছি, তাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং তাদের অনেক সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)
এখানেই সহকর্মীর প্রয়োজন এবং সক্ষমতার মানদণ্ড ফুটে ওঠে। অথচ মানবস্বভাবের বৈচিত্র্য বিবেচনায় মিসরীয় সাহিত্যিক মোস্তফা লিফু আল-মানফলুতির ভাষায়—মানুষ চার স্তরে বিভক্ত : যারা অন্যের উপকার করে এবং নিজেরও উপকার করে। এরা
দুর্লভ, এদের গ্রিক দার্শনিক ডাইওজিনাস দিনের বেলাও প্রদীপ হাতে খুঁজে বেড়ান।
যারা অন্যের উপকারের দ্বারা নিজেও উপকৃত হওয়ার ফন্দি করে। এরা স্বৈরাচারী। এদের ভাবনা যেন এমন, দুনিয়ার মানুষগুলো জবাই করে দিলে এদের রক্ত জমাট বেঁধে সোনা হয়ে যেত। যারা নিজের উপকার করে, কিন্তু অন্যের উপকার করে না, তারা হলো লোভাতুর কুকুরতুল্য।
যারা নিজের উপকার করে না এবং অন্যের উপকারও করে না, তারা হলো নির্বোধ কৃপণ; যেন সিন্দুক। সম্পদ সিন্দুকে থাকে, অথচ সিন্দুক তার কোনো স্বাদ পায় না। কাজেই ইসলামে শ্রম ও সহকর্মীর মূল্যায়ন জরুরি। দৈহিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রম-ঘাম মানুষের চলার গতিকে করে স্বচ্ছন্দ। কর্মীর স্বার্থ সংরক্ষণ একটি আমানত।



