০১/০৫/২০২৬, ১৭:১২ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    বাউফলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে টেকনিশিয়ানের ‘চিকিৎসা’ দেওয়ার অভিযোগ

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। জানা যায়, উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর (৫০) মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। তাকে জানানো হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক আসবেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চিকিৎসক না আসায় সেন্টারের কর্মচারীরা তার রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে এবং এক্স-রে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন টেকনিশিয়ান মো. মাহবুবুর রহমান, যার কোনো বৈধ টেকনিশিয়ান সনদ নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে বেলা ৩টার দিকে রোগীকে পাশের ফার্মেসি থেকে Andol ও Emistat 8mg নামের দুটি ইনজেকশন কিনে আনতে বলা হয়। তখনও পেটব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর। ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বলেন, “সারারাত পেটব্যথায় কষ্ট পেয়েছি। সকালে এখানে এসে বসে আছি, কিন্তু ডাক্তার এখনো আসেননি। আগে জানালে সরকারি হাসপাতালে যেতাম। আমাকে মিথ্যা বলা হয়েছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান নিয়মিত এক্স-রে করেন এবং কখনও কখনও চিকিৎসকের ভূমিকায় রোগীদের পরামর্শও দিয়ে থাকেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ নার্গিস আরা স্বপ্না বলেন, “চিকিৎসকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে পরামর্শ করেই রোগীর পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম (শামিম) ফোনে জানান, তিনি বরিশাল থেকে আসছিলেন এবং বিকাল ৪টা থেকে চেম্বার করেন—এ তথ্য সবার জানা। তিনি বলেন, “রোগীকে সকাল থেকে বসিয়ে রাখা মিসলিডিং। মোবাইলের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে রোগীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।” এদিকে জানা গেছে, চিকিৎসক গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ চালিয়ে যেতে বললেও রোগীকে তা না দিয়ে ব্যথানাশক ও বমি প্রতিরোধক ইনজেকশন দেওয়া হয়, যদিও রোগীর বমির উপসর্গ ছিল না। অভিযুক্ত টেকনিশিয়ান মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বলেন, “চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে কোনো কর্মচারী কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা প্রদান এবং রোগীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপেক্ষা করানো গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” জেলা সিভিল সার্জন মো. খালিদুর রহমান মিয়া বলেন, “চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ বা ওষুধ প্রদান করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়