জেড নিউজ ডেস্ক:
ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে নতুন করে বিস্ফোরক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে সরাসরি নিশানা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা এখন আর স্বচ্ছতার প্রতীক নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে এক ধরনের নিলামের ব্যবস্থায়, যেখানে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ।
সামাজিকমাধ্যমে এক বার্তায় রাহুল গান্ধী দাবি করেন, গত ১০ বছরে ভারতে অন্তত ৮৯ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং ৪৮টি পরীক্ষাকে পুনরায় নিতে হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিবারই কেন্দ্রীয় সরকার কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং প্রতিটি বিতর্কের পর প্রশাসনিক নীরবতা আরও গভীর হয়েছে।
রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, নিট পরীক্ষার প্রায় ৪২ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে তাদের ভবিষ্যৎকে বাজারে তোলা হয়েছে। তার মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়ারা, যাদের কাছে এই ধরনের সর্বভারতীয় পরীক্ষাই ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র ভরসা।
কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না এলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজস্থানে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁস চক্রের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাদের হাতে একটি ৪১০টি প্রশ্নের সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র এসেছে, যার মধ্যে কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রায় ১২০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তি ও কোচিং সংস্থার ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রশ্নফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। সংস্থার দাবি, চলতি বছরের নিট পরীক্ষা অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র পরিবহণে জিপিএস প্রযুক্তিসম্পন্ন যান ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নপত্রে বিশেষ ওয়াটারমার্ক রাখা হয়েছিল, যাতে সহজেই শনাক্ত করা যায়।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সিসিটিভি নজরদারি চালানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে। পাশাপাশি বসানো হয়েছিল ফাইভ-জি জ্যামার এবং পরীক্ষার্থীদের বায়োমেট্রিক যাচাইও করা হয়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির দাবি, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার চার দিন পর প্রথম অনিয়মের তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়। পরে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়। একসঙ্গে রাজস্থান এসওজি-র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে তারা।
তবে অভিযোগ ও সরকারি ব্যাখ্যার এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতোমধ্যেই অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বচ্ছ তদন্ত এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।



