১৪/০৫/২০২৬, ১৫:২৫ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    পোষা প্রাণী হিসেবে শস্যসংগ্রাহক পিঁপড়ার কদর বাড়ছে

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    বাইবেলের গ্রন্থ বুক অব প্রোবার্ভে শস্যসংগ্রাহক পিঁপড়াকে ‘জ্ঞান ও পরিশ্রমের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন রাজা সলোমন। এর প্রায় তিন হাজার বছর পর, পূর্ব আফ্রিকার এক বিশেষ প্রজাতির পিঁপড়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক চোরাই বাজার চক্র। কেনিয়ায় ধারাবাহিকভাবে পিঁপড়া পাচারে কয়েকটি দণ্ডাদেশের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে নজরে আসে।

    সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ১৫ এপ্রিলের। এদিন চীনা নাগরিক ঝ্যাং কেকুন-কে এক বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ কেনিয়ান শিলিং (প্রায় ৫ হাজার ৬৯০ পাউন্ড) জরিমানা করা হয়। মার্চে তাকে নাইরোবির বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ তার লাগেজে বিশেষভাবে তৈরি টিউবের মধ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি জীবিত পিঁপড়া খুঁজে পায়, যেগুলো চীনে পাচার হচ্ছিল।

    উদ্ধার হওয়া পোকাগুলোর মধ্যে ছিল ১ হাজার ৯৪৮টি মেসর সেফালোটেস, যা জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার অ্যান্ট নামে পরিচিত এবং সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

    মামলার বিচারক প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন গিকোবি বলেন, কেনিয়ায় পিঁপড়া পাচারের ঘটনা বাড়ছে এবং এ বাণিজ্য পরিবেশগতভাবে ক্ষতিকর হওয়ায় ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ প্রয়োজন।

    গত এক বছরের মধ্যে কেনিয়ায় এটি ছিল তৃতীয় এমন মামলা। এতে বোঝা যাচ্ছে, এশিয়া ও ইউরোপে বিদেশী পোষা প্রাণী হিসেবে পিঁপড়ার বাজার দ্রুত বাড়ছে। এসব অঞ্চলের সংগ্রাহক ও শৌখিন গবেষকরা পিঁপড়াগুলোকে কৃত্রিম পিঁপড়া খামারে রেখে তাদের উপনিবেশ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

    চীনে অনলাইনে ‘পিঁপড়া বিক্রির জৈবিক ঝুঁকি’ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালিত হয় ২০২৩ সালে। সেখানে দেখা যায়, ২০২১ সালের ছয় মাসের একটি সময়ে চীনের ইন্টারনেটভিত্তিক বিদেশী পিঁপড়ার বাজারে মেসর সেফালোটেস ছিল তৃতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রজাতি।

    প্রসিকিউটররা জানান, প্রতিটি পিঁপড়ার জন্য ঝ্যাং ১০০ কেনিয়ান শিলিং করে পরিশোধ করেছিলেন।

    অথচ ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার বিদেশী পোষা প্রাণীর বাজারে একটি জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার রানী পিঁপড়ার দাম ২৩৫ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট স্ট্যানচেভ। অর্থাৎ কেনিয়ার দামের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি।

    মেসর সেফালোটেস পূর্ব আফ্রিকার স্থানীয় শস্যসংগ্রাহক পিঁপড়ার একটি প্রজাতি। উজ্জ্বল লাল ও কালো রঙের পিঁপড়াগুলো এ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে পরিচিত। শ্রমিক পিঁপড়া ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত এবং রানী ২৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। খাদ্য সংগ্রহ ও বাসা নির্মাণে এদের জটিল আচরণ সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

    কীটতত্ত্ববিদ ডিনো মার্টিনস বলেন, ‘পিঁপড়ার জগতে এরা যেন বাঘের মতো— বিরল, সুন্দর ও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।’

    একটি রানী পিঁপড়া পুরুষ পিঁপড়ার সঙ্গে মিলনের পর লাখ খানেক শ্রমিক ও সৈনিক পিঁপড়ার উপনিবেশ গড়ে তোলে এবং সারা জীবন ডিম পাড়তে থাকে। একটি উপনিবেশ কয়েক দশক পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তারা বড় গোলাকার বাসা তৈরি করে এবং মাটির নিচে শস্য জমা রাখে।

    স্ট্যানচেভ বলেন, জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া সংগ্রাহকদের কাছে ‘স্বপ্নের প্রজাতি’। কারণ তাদের বড় আকার, জটিল উপনিবেশ গঠন, দীর্ঘ খাদ্য সংগ্রহের সারি এবং বিভিন্ন আকারের শ্রমিক পিঁপড়া অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তিনি বলেন, ‘রানী পিঁপড়াগুলো সত্যিই অপূর্ব।’

    মার্টিনস জায়ান্ট আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়াকে তৃণভূমি ও সাভানার বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করেন। ঘাসের বীজ সংগ্রহ ও ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    তিনি বলেন, ‘তারা যেন তৃণভূমির কৃষক। তারা নিশ্চিত করে যে নানা ধরনের ঘাস টিকে থাকে, যা গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    অতিরিক্ত হারে পিঁপড়া সংগ্রহ ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন মার্টিনস। তার ভাষায়, ‘আমরা যদি পিঁপড়া হারাই, তাহলে গরু হারাব, দুধ হারাব, মাখন ও পনির হারাব, আর হারাব বন্যপ্রাণী ও পর্যটনও।’

    যেসব এলাকায় এসব পিঁপড়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেখানেও ক্ষতি হতে পারে। ২০২৩ সালের গবেষণায় বলা হয়, স্থানীয় পরিবেশের বাইরে পিঁপড়া নিয়ে যাওয়া হলে তারা আক্রমণাত্মক প্রজাতিতে পরিণত হতে পারে, যার পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক পরিণতি হতে পারে ‘ভয়াবহ’।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়