২০/০৫/২০২৬, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    যৌতুকের পশু দিয়ে কোরবানি বিপজ্জনক

    জেড নিউজ , ঢাকা :

    আমাদের সমাজে একটি প্রথা প্রচলিত আছে, তা হলো, পবিত্র ঈদুল আজহার সময় মেয়ের বাড়িতে কোরবানির পশু পাঠাতে হয়, বিশেষ করে নববিবাহিত মেয়ের বাড়িতে কোরবানির পশু ও ঈদ উপহার পাঠানো বাধ্যতামূলক মনে করা হয়। ঈদ এলে কার শ্বশুরবাড়ি থেকে কত বড় কোরবানির পশু এলো, তা নিয়ে এলাকা সরগরম থাকে।

    ফলে স্বাভাবিকভাবেই বরপক্ষের লোকদের মনে আশা জন্মায় যে আমাদের ছেলের শ্বশুরবাড়ি থেকে এমন কিছু আসুক, যা এলাকায় আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। মেয়ের পক্ষের লোকদের মাথায় থাকে, মেয়ের জামাইকে ঈদে বড় কোরবানির পশু না দিতে পারলে মানসম্মান থাকবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো মেয়ে অত্যাচারের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। কেউ সন্তুষ্টচিত্তে কোনো রকম চাপ ছাড়া তাঁর মেয়েকে কোরবানির পশু উপহার দিলেও তা অনেকের বিপদের কারণ হতে পারে।

    সব মিলিয়ে যৌতুকের পশু দিয়ে কোরবানি করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। নিম্নে এ রকম কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলোর কারণে যৌতুকের পশুতে কোরবানি বিপজ্জনক হতে পারে।

    এ উপহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌতুকের পর্যায়ে পড়ে। খুব কম মানুষই কোনো ধরনের চাপে না পড়ে সন্তুষ্টচিত্তে এসব উপহার দেয় না কিংবা যা দিচ্ছে, তা দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না।

    যৌতুক মূলত চাপ সৃষ্টি করে অন্যের সম্পদ নেওয়া। ইসলামে এটি জুলুম ও অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগের অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে হারাম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ কোরো না এবং তা বিচারকদের (ঘুষ হিসেবে) প্রদান কোরো না, যাতে মানুষের সম্পদের কোনো অংশ পাপের মাধ্যমে জেনেবুঝে খেয়ে ফেলতে পার।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৮)

    বোঝা গেল, অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ ভক্ষণ মুমিনের জন্য হালাল নয়। আর আল্লাহ হালাল ও উৎকৃষ্ট বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।

    হাদিসে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র; তিনি শুধু পবিত্র (হালাল) জিনিস ছাড়া গ্রহণ করেন না।’

    সাধারণত যৌতুকের পশু নিয়ে পরিবার বা ব্যক্তি যদি গর্ববোধ করে, ‘আমাদের অমুকের শ্বশুরবাড়ি থেকে এত বড় পশু পাঠানো হয়েছে’, ‘আমরা অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারে আত্মীয়তা করেছি, প্রতিবেশীরা তুচ্ছ’ এগুলোও নিয়তকে কলুসিত করে। আর পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৮)

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়