১৬/০৫/২০২৬, ১৯:৫০ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    আফ্রিকার ভূগর্ভে জন্ম নিচ্ছে নতুন টেকটোনিক প্লেট!

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    পৃথিবীর ভূত্বক কখনোই পুরোপুরি স্থির নয়। বিশাল বিশাল শিলাস্তরের প্লেটগুলো ক্রমাগত সরে যাচ্ছে, সংঘর্ষ করছে, আবার দূরে সরে যাচ্ছে। এই ধীর গতি এতটাই ধীর যে মানুষের জীবদ্দশায় তা বোঝা যায় না। কিন্তু কোটি কোটি বছরের হিসাবে এই সঞ্চালনই গড়ে তুলেছে মহাদেশ, সমুদ্র, পর্বত আর আগ্নেয়গিরি। প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর একক মহাদেশ প্যাঞ্জিয়া ভেঙে বর্তমান মহাদেশগুলোর জন্ম হয়েছিল। এখন বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আফ্রিকার দক্ষিণাংশও হয়তো একই ধরনের এক নতুন বিচ্ছেদের পথে হাঁটছে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকার বুকের নিচে জন্ম নিচ্ছে একটি নতুন টেকটোনিক প্লেট সীমান্ত। এমন একটি পরিবর্তন, যা কয়েক মিলিয়ন বছর পরে আফ্রিকার মানচিত্রকে ভেঙে দিতে পারে দুই ভাগে। আর সেই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক যাত্রার প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে জাম্বিয়ার কাফু রিফট অঞ্চলে।

    প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাফু রিফট তানজানিয়া থেকে নামিবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ভূবিজ্ঞানের ভাষায় ‘রিফট’ হলো পৃথিবীর ভূত্বকের ফাটল বা দুর্বল অঞ্চল, যেখানে ভূত্বক ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। এর ফলে ভূমি দেবে যেতে পারে, ভূমিকম্প হতে পারে, এমনকি ভবিষ্যতে নতুন সাগরও তৈরি হতে পারে। পৃথিবীতে হাজার হাজার রিফট রয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগই বহু আগেই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাফু রিফটকেও মৃত বলেই মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দশকে বিজ্ঞানীরা সেখানে এমন কিছু লক্ষণ পেয়েছেন, যা নতুন করে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি করেছে।

    কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওই অঞ্চলে এমন ক্ষুদ্র ভূমিকম্প হচ্ছে যা মানুষ অনুভব করতে না পারলেও যন্ত্রে ধরা পড়ে। মাটির নিচের তাপমাত্রা বাড়ছে, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ছে ভূমির উচ্চতার সূক্ষ্ম পরিবর্তন। এসবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভূগর্ভে কিছু একটা সক্রিয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন আর্থ সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    গবেষণাটির প্রধান গবেষক রুতা কারোলিতে, যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন এই এলাকার প্রথম ভূ-রাসায়নিক তথ্য রয়েছে। এটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের প্রমাণ, যা রিফট সক্রিয় থাকার ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে।’

    গবেষক দল জাম্বিয়ার কয়েকটি উষ্ণ প্রস্রবণ ও ভূ-তাপীয় কূপ থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেন। এই উষ্ণ পানি স্বাভাবিকভাবেই মাটির নিচ থেকে উঠে আসছে। গবেষকদের লক্ষ্য ছিল মূলত হিলিয়ামের দুটি আইসোটোপ হিলিয়াম ৩ ও হিলিয়াম-৪ এর অনুপাত পরীক্ষা করা। কারণ পৃথিবীর ম্যান্টল থেকে উঠে আসা পদার্থে সাধারণত হিলিয়াম-৩ বেশি থাকে।

    কারোলিতে বলেন, ‘আমরা ভূত্বকে স্বাভাবিকভাবে যতটা পাওয়া যায় তার চেয়ে বেশি হিলিয়াম-৩ পেয়েছি। সাধারণত এটি ম্যান্টল থেকে তরল বা গ্যাস উপরে উঠে আসার সংকেত।’

    পৃথিবীর ম্যান্টল হলো ভূত্বক ও কেন্দ্রের মাঝের বিশাল স্তর। যখন টেকটোনিক প্লেটগুলো প্রসারিত হতে শুরু করে এবং আলাদা হওয়ার পথে যায়, তখন ম্যান্টলের পদার্থ ওপরে উঠে আসতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কাফু রিফটে পাওয়া এই গ্যাসের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য হয়তো সেই গভীর প্রক্রিয়ারই প্রাথমিক ইঙ্গিত।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়