spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি

আমিরুল ইসলাম কাগজী:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এদিনকে কেন্দ্র করে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। এই দিনের সফল অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায়।সেদিক থেকে বিচার করলে ৭ই নভেম্বর কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের ঘটনা ছিল না। এটা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব ধরে রাখার সিপাহী-জনতার মিলিত সংগ্রাম। স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক এবং জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার পুনর্বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ ৭ই নভেম্ববর। এই দিনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়, তা পরবর্তী কয়েক দশকের রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনর্বাসন, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ছিল নতুন রাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, খাদ্যসংকট, প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক সংঘাত এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে স্বাধীনতার প্রথম কয়েক বছর রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন হয়ে ওঠে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো চালু হয়। ফলে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর সংকুচিত হয়। একই সঙ্গে পদদলিত হয় নির্বাচন নামক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রথম মত প্রকাশের স্বাধীনতা। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এমনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলো যেখানে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গেল।
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও সামরিক অসন্তোষ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসকে এক অনিশ্চিত অধ্যায়ে প্রবেশ করায়।
৭ নভেম্বর: সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থান ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আওয়ামী লীগের চার নেতার হত্যাকাণ্ড এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রাষ্ট্রকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেয়। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিরোধ, নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। গৃহবন্দী করা হয়েছিল তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে। ক্ষমতার পাদপিটে চলে আসেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। তার সঙ্গে যোগ দেন কর্নেল শাফায়াত জামিল। তার নেতৃত্বে দখল হয় বঙ্গভবন এবং ক্ষমতাচ্যুত হন খন্দকার মোস্তাক সরকার। দেশ পতিত হয় এক গভীর সংকটে। একই সময় সৃষ্টি হয় সেনানিবাসে চরম অস্থিরতা। ঠিক সেই সময় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার জন্য সামনে এগিয়ে আসেন কর্নেল তাহের এবং তার অনুসারীরা। কর্নেল তাহের চাকরিতে না থাকলেও সেনাবাহিনীতে তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে ৭ ই নভেম্বর সিপাহী জনতার গণ অভ্যুত্থানে সফল হন। এই বিদ্রোহের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক আবেগ যুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিদ্রোহের মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন। আর জনতার রুদ্ধরোষে নিহত হন খালেদ মোশাররফ।
৭ নভেম্বরের ঘটনাকে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারায় একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে এটি ছিল বহুমাত্রিক একটি ঘটনা—যেখানে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সৈনিকদের অসন্তোষ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংকট এবং জনগণের প্রত্যাশা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। এ কারণে ৭ নভেম্বরের ব্যাখ্যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন মতাদর্শিক অবস্থান থেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকে।
৭ নভেম্বরের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন ধারার বিকাশ ঘটে, তার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের উত্থান। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রধান ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়কে ভাষাগত ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের পাশাপাশি ভূখণ্ড, স্বাধীন সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত পরিচয়ের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই দর্শনের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র জাতিরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বাঙালি পরিচয়ের গুরুত্ব অস্বীকার না করেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে বসবাসকারী সব জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে একটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক ও দর্শনের জন্ম হয়।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক ধারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্যের ধারণাকে রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে।
৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সংঘটিত হয়। সামরিক শাসনের অধীনে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং একই বছর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন পরিসর তৈরি হয়।
১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী রাজনীতির বিস্তার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করে।
তবে এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সতর্কতা প্রয়োজন। সামরিক আইন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর দমন-পীড়ন এবং সামরিক বাহিনীর রাজনীতিতে প্রভাবের মতো বিষয়গুলোও এই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ ছিল। অর্থাৎ ৭ নভেম্বর-পরবর্তী রাজনৈতিক বিকাশ ছিল গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রক্ষমতার পুনর্বিন্যাস এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের উপাদানগুলোর একটি জটিল সমন্বয়।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার অন্যতম উপায়। রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বেসরকারি উদ্যোগ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি এবং বিদেশি বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়ননীতিকে জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। এর ফলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি কেবল রাষ্ট্রের পরিচয় বা রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও উন্নয়নের ধারণাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন অবস্থান, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক, দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রচিন্তার বিস্তৃত রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান মূল্যায়নে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সামরিক-বেসামরিক ঐক্য এবং রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক।
অন্যদিকে, জাসদ দিনটিকে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং অভ্যুত্থানের সমাজতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়। আর যথারীতি আওয়ামী লীগ দিবসটিকে সেনা কর্মকর্তাদের নির্বিশেষ হত্যাদি দিবস। যদিও তাদের এই বয়ান ব্যাপক পরিসরে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে নাই। কারণ সেই বিপ্লবের সময় খালেদ মোশারফসহ মাত্র তিনজন সেনা কর্মকর্তা হত্যার শিকার হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণ থেকে সৃষ্টি হয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্তরাধিকার।সাত নভেম্বর ১৯৭৫ বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একটি সন্ধিক্ষণ, যার প্রভাব স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপথকে গভীরভাবে পরিবর্তিত করেছে। এই দিনকে কেন্দ্র করে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশ, বিএনপির প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার বিস্তার ঘটে।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দৃষ্টিতে ৭ নভেম্বর ছিল জাতীয় পরিচয়ের পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক বহুত্বের প্রত্যাবর্তন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব পথ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িত সহিংসতা, সামরিক ক্ষমতার প্রভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাবদ্ধতা ইতিহাসের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন দাবি করে।
আজকের বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশ, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, তার ঐতিহাসিক শিকড় অনুসন্ধানে ৭ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো—জাতীয়তাবাদ কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণের রাজনৈতিক দর্শন। ৭ নভেম্বরের উত্তরাধিকার তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক চিন্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়