জেড নিউজ, ঢাকা:
স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে এবং ভোক্তাদের ওপর করের বোঝা কমাতে আসন্ন বাজেটে সরকার বিভিন্ন খাতে ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি করছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি ও আমদানি শুল্ক সমন্বয় করতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রেফ্রিজারেটরের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৬ শতাংশ করা হতে পারে। এই সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
৬৮ ধরনের ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এছাড়া উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান হ্রাসকৃত আমদানি শুল্ক সুবিধা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
রাজস্বের ক্ষেত্রে, মোবাইল ফোনের সিমকার্ড বিক্রিতে ভ্যাট বাবদ নির্দিষ্ট ৩০০ টাকা নেওয়ার বদলে বিক্রয়মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হতে পারে।
শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক বিদ্যমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। ফলে স্থানীয় বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে। এছাড়া খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করার প্রস্তাব আসতে পারে, যার ফলে এর দাম ভোক্তা পর্যায়ে কমতে পারে।
কীটনাশক ও বালাইনাশকের ৩০টির বেশি কাঁচামালের ওপর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার হতে পারে। জিঙ্ক সালফেট সার উৎপাদনের মূল কাঁচামাল জিঙ্ক অ্যাশ আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার হতে পারে।
বাজেট প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এবারের বাজেটে প্রান্তিক করদাতাদের যথাসম্ভব করের চাপ থেকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। অন্যদিকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কে ছাড়ের মেয়াদ ২০৩০ সাল, ক্ষেত্রবিশেষে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ২৭ ধরনের কৃষি ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহে বিদ্যমান হ্রাসকৃত ০.৫ শতাংশ উৎসে করের তালিকায় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছসহ আরও ৩৩টি পণ্য যুক্ত হতে পারে। এই বাড়তি ৩৩ পণ্যের ওপর বর্তমানে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমতে পারে।
কমতে পারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসি, রেফ্রিজারেটরের দাম:
গত বছরের বাজেটে ফ্রিজ ও এসির উৎপাদন পর্যায়ে হ্রাসকৃত হারের ভ্যাট ব্যবস্থা তুলে দিয়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে এসব শিল্পে লম্বা সময় ধরে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর ছাড় দিয়ে আসছিল এবং এর সুফলও মিলছিল। এসব খাতের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বারচিল।
তবে সেই সুবিধা কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এসি, রেফ্রিজারেটরের ভ্যাট ৭.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়। অবশ্য উপকরণ ব্যবহারের ওপর কর রেয়াত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে—যে সুযোগ ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট হারের আওতায় নেই। সেই হিসাবে প্রকৃত অর্থে ১৫ শতাংশ ভ্যাট হয় না।
তবু এই ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে গত এক বছরে স্থানীয় শিল্পের বিক্রির তুলনায় এসি ও রেফ্রিজারেটরের আমদানি বেড়েছে বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এক বছরে রেফ্রিজারেটর ও এসির আমদানি ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আগামী বছরগুলোতে এই বৃদ্ধির হার আরও বেশি হতে পারে।
এজন্য সরকার এই সুবিধা আরও চার বছরের জন্য অব্যাহত রাখতে পারে বলে জানান তিনি। ১১ জুনের বাজেটে এ ঘোষণা আসতে পারে।



