জেড নিউজ, ঢাকা:
জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৭ই জুলাই আমাকে ও সারজিস আলমকে (বর্তমানে এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক) ডিজিএফআই তুলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নিয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সেখানে তৎকালীন মন্ত্রী আনিসুল হক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এসে হাজির হন। তখন আমাদেরকে এই মন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করতে চাপ দেয়া হয়। আমরা নাহিদ ইসলাম (বর্তমানে এনসিপি’র আহ্বায়ক) ও আসিফ মাহমুদের (বর্তমানে ক্রীড়া উপদেষ্টা) সঙ্গে কথা না বলে মিটিং করতে রাজি না হলে আমাদেরকে প্রেসক্লাব থেকে মাতৃভাষা ইনিস্টিউটের মাঝখানে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে রাখা হয়। সেটি সেফ হাউজ নামে পরিচিত। সেখানে নিয়ে ডিজিএফআইয়ের এক কর্মকর্তা আমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে বসে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা টেলিভিশনের স্ক্রলে কী দেখানো হবে তা ফোন দিয়ে নির্ধারণ করে দিতেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে বসেই তারা স্ক্রল বলত, আর সেই কথাই টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করত।’
মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে তিনি এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন-অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে হাসনাত আরও বলেন, ‘সেফ হোমে থাকাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ ছিলো। কিন্তু আমার ফোনের মাধ্যমে সমন্বয়ক হাসিবকে ফোন দিয়ে তার অবস্থান জানতে চাই। তখন আমার সামনে ডিজিএফআইয়ের অফিসার বসা ছিলো। তখন হাসিব বলে সে চাঁনখারপুলে আন্দোলনে আছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসিবকে সেফ হাউজে তুলে আনা হয়। হাসিব ও তার বোন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হওয়ায় হাসিবকে শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘সেফ হোমে নিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো হয়। আমাদেরকে আন্দোলন প্রত্যাহারে নির্যাতন করা হয়। ১৮ই জুলাই রাতে আমাদেরকে পুনরায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ ৩ জনের সঙ্গে বৈঠকের জন্য চাপ দেয়া হয়। আমাদেরকে মিডিয়ার সামনে নিয়ে গেলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেই, বলি চলমান ‘লকডাউন’ অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে মিডিয়া হাউজগুলা আমাদের বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচার করে।’



