২২/০৪/২০২৬, ১৮:২৯ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের অর্ধেক ইরান যুদ্ধেই শেষ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র

    জেড নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ অনেকটা কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এবং পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনজন সূত্র বলছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো সংঘাত দেখা দিলে গোলাবারুদের ঘাটতির ‘তাৎক্ষণিক ঝুঁকি’ তৈরি হয়েছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) নতুন বিশ্লেষণ বলছে, সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ খরচ করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর কাজে ব্যবহৃত থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশও ব্যবহার হয়ে গেছে। পেন্টাগনের গোপন তথ্যের সঙ্গে এই সংখ্যা মিলে যায় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    এ বছরের শুরুতে পেন্টাগন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে বেশ কিছু চুক্তি করেছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরেও এই অস্ত্র পুনরায় সরবরাহ পেতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগবে বলে সিএসআইএসের বিশেষজ্ঞরা এবং সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    সিএসআইএসের বিশ্লেষণ বলছে, স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্ভবত আছে। তবে চীনের মতো কোনো শক্তিশালী দেশের মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট মজুদ আর নেই। যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরে আসতে বছরের পর বছর লাগবে।

    সিএসআইএসের প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক, অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যান্সিয়ান বলেন, ‘উচ্চ গোলাবারুদ ব্যয় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তি দুর্বলতার একটি সময় তৈরি করেছে। এই মজুদ পূরণ করতে এক থেকে চার বছর লাগবে এবং তারপর আরও কয়েক বছর লাগবে সেগুলো যেখানে থাকা দরকার সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে।’

    বিশ্লেষণ ও সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দূরপাল্লার জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহার করেছে। এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশও খরচ হয়ে গেছে। এগুলো পুনরায় সরবরাহ করতে চার থেকে পাঁচ বছর লাগবে।

    পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর কাছে ‘প্রেসিডেন্টের পছন্দের সময়ে ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু আছে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছি। একই সঙ্গে আমাদের জনগণ ও স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে সক্ষমতার গভীর ভান্ডার রয়েছে।’

    তবে এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সঙ্গে মিলছে না। তিনি বলেছিলেন, কোনো অস্ত্রের ঘাটতি নেই। তবে ইরান যুদ্ধের প্রভাব সামলাতে তিনি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নও চেয়েছেন।

    যুদ্ধ শুরুর আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং অন্য সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘ সামরিক অভিযান অস্ত্রের মজুদে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তাকারী মজুদে।

    সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের সদস্যরাও ব্যবহৃত গোলাবারুদের পরিমাণ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরে মার্কিন প্রতিরক্ষায় এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়