০৫/০৬/২০২৬, ০:১১ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    বিরল পরিযায়ী সরুঠোঁট ডুবুরি হাঁস

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    শীতের পরিযায়ী সরুঠোঁট ডুবুরি হাঁস। তবে এরা অন্য ডুবুরি হাঁসের মতো শুধু পানির নিচে সাঁতারই কাটে না, চমৎকারভাবে উড়তেও পারে। এসব হাঁস আমাদের দেশে খুবই অনিয়মিত। তাই এদের দেখা পাওয়া দুষ্কর। সর্বশেষ ২০২৩ সালে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে দেখা গিয়েছিল। এর আগে ২০২০ সালে লালমনিরহাটের তিস্তা নদী ও ২০১৯ সালে রাজশাহীর পদ্মার চরে দেখা যায়। তবে সংখ্যায় একেবারেই কম। এরা মূলত ইউরেশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বাস করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, রাশিয়া, ইউরোপ ও এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি। বাংলাদেশ ছাড়াও শীতে এশিয়ার পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও ভুটানে দেখা যায়।

    এরা অ্যানাটিডি পরিবারের এক প্রজাতির বড় জলজ হাঁস। এরা পানিতে ডুব দিয়ে মাছ শিকারে পটু। লম্বায় ৫৮-৭২ সেন্টিমিটার। পাখা প্রায় ৭৮-৯৭ সেন্টিমিটার। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ হাঁসের মাথা গাঢ় সবুজ। দেহ উজ্জ্বল সাদা। স্ত্রী হাঁসের মাথা ও ঘাড় লালচে-বাদামি। শরীর ছাই রঙের। মাথা লালচে-বাদামি। চিবুক সাদা। ডানায় সাদা গৌণ পালক রয়েছে। চোখ এবং ঠোঁটের মাঝখানে ছোট কালো-প্রান্তযুক্ত সাদা ডোরা রয়েছে। ঠোঁট ও পা লাল থেকে বাদামি-লাল। যা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পাখির ক্ষেত্রে উজ্জ্বল আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অনুজ্জ্বল। মাথায় পেছনে মসৃণ গোলাকার খাড়া পালক রয়েছে।

     এই পালক দেখে প্রজননকালে পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ পাখিদের সহজেই চেনা যায়। ঠোঁট সরু লম্বা এবং সুচালো, যা মাছ ধরতে সাহায্য করে। ঠোঁটের কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। প্রধান খাবার ছোট মাছ। প্রবহমান নদী ও নালায় বিচরণ করে। স্রোতের বিপরীতে পানির নিচে ডুব দিয়ে মাছ ধরে খায়। মাছ ছাড়াও জলজ পোকামাকড়, চিংড়ি, শামুকজাতীয় প্রাণী, ব্যাঙ ও লতাপাতা এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে।

    প্রজননকালে গাছের কোটরে বাসা বাঁধে। আর পর্বতমালার মতো বৃক্ষহীন এলাকা হলে খাড়া পাহাড়ের চূড়া কিংবা উঁচু পাহাড়ের গর্ত খুঁজে নেয়। ৮ থেকে ১২টি ডিম দেয়। ডিমের রং সাদা থেকে হলুদ। ডিম ফোটার পর মা হাঁস পিঠে করে ছানাদের জলাশয়ে নিয়ে যায়। ৬০ থেকে ৭০ দিন বয়সে ছানা উড়তে শেখে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়