জেড নিউজ ডেস্ক :
এক সময় ব্রিটেনের সমুদ্রে অক্টোপাস দেখা ছিল অনেকটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। ডুবুরিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির নিচে কাটিয়েও হয়তো একটি অক্টোপাসের দেখা পেতেন না। এখন সেই দৃশ্যপট যেন পাল্টে গেছে। যেই প্রাণী এক সময় প্রায় অদৃশ্য ছিল, এখন সেটি একের পর এক উপকূলে ছড়িয়ে পড়ছে।
গত বছর দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডেভন ও কর্নওয়ালে যে অস্বাভাবিক বিস্তার শুরু হয়েছিল, তা এখন ওয়েলস, ডরসেট, পূর্ব সাসেক্স পেরিয়ে স্কটল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গবেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে এটিই সবচেয়ে বড় ‘অক্টোপাস বিস্তার’।
এ পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জলবায়ু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মৃদু শীত আর তুলনামূলক উষ্ণ বসন্ত অক্টোপাসের বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। সাধারণ বা ভূমধ্যসাগরীয় অক্টোপাস ব্রিটেনের স্থানীয় প্রজাতি হলেও এত দিন তাদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় এখন তারা দ্রুত নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান সমিতির গবেষক ব্রাইস স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে করা গবেষণায় বৈজ্ঞানিক জরিপের পাশাপাশি ডুবুরি ও স্নরকেলারদের পর্যবেক্ষণও যুক্ত করা হয়েছে। স্টুয়ার্টের ভাষায়, আগেও এমন বিস্তার দেখা গেছে, কিন্তু এবারের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আর এ পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছেন জেলেরা। অক্টোপাস কিন্তু কাঁকড়া ও লবস্টার শিকারে খুব দক্ষ। ফলে যাদের জীবিকা এসব সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল, তাদের অনেকের জাল এখন প্রায় খালি ফিরছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মাছ ধরার নৌকাও বিক্রি করেছেন।
২০২৫ সালের ডেভন ও কর্নওয়ালের দক্ষিণ উপকূলে বুদ্ধিমান এই অমেরুদণ্ডী প্রাণীর সংখ্যাবৃদ্ধির বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে
অন্যদিকে একই পরিবর্তন আবার নতুন সুযোগও তৈরি করেছে। ২০২৫ সালে অক্টোপাস আহরণ বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ শতাংশ। গত সপ্তাহেই ডেভনের ব্রিক্সহাম মাছের বাজারে এক দিনেই প্রায় ১০০ টন অক্টোপাস বিক্রি হয়েছে, যা নতুন রেকর্ড।
তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটছে সমুদ্রের ভেতরেই। অক্টোপাস যেমন ঝিনুকজাতীয় প্রাণী ও নানা মাছ শিকার করছে, তেমনি সিল, কঙ্গার ইল ও বিরল রিসো ডলফিনের জন্য নতুন খাদ্যের উৎসও হয়ে উঠছে।
গবেষকদের মতে, এটি শুধু একটি প্রাণীর সংখ্যা বাড়ার গল্প নয়। বরং উষ্ণ হয়ে ওঠা সমুদ্র কীভাবে ধীরে ধীরে পুরো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে, তারই জীবন্ত উদাহরণ।



