জেড নিউজ, ঢাকা:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে জয়লাভ করে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয়-বংশোদ্ভূত মার্কিন সার্জ অ্যাডাম হামাওয়ি। এর মধ্য দিয়ে নিউ জার্সি থেকে প্রথম কোনো মুসলিম ও মিশরীয়-আমেরিকান হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী জানুয়ারিতে ডেমোক্র্যাটরা যখন ২৫০টি আসন নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে, তখন হামাওয়ির এই জয় দলের জন্য এক বড় মাইলফলক।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর দেয়া ভাষণে গাজার জনগণের উদ্দেশে সরাসরি কথা বলেন হামাওয়ি। তিনি বলেন, ‘গাজা ও ফিলিস্তিনের পুরুষ, নারী ও শিশুদের বলছি। আপনাদের হাসি আমাকে আরও সুন্দর একটি পৃথিবীর জন্য লড়াই করার সাহস ও আশা জোগায়।’
প্রিন্সটনে আয়োজিত বিজয় উদ্যাপনে তিনি অবিলম্বে কাজ শুরুর ঘোষণা দেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘জবাবদিহির আওতায়’ আনার প্রতিশ্রুতি দেন। পেশায় শল্যচিকিৎসক হামাওয়ি বলেন, ‘আমি একজন সার্জন, আর আমি আপনাদের বলতে পারি যে আমরা এই রক্তক্ষরণ থামাতে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন শাসন করা গোষ্ঠী যেসব আমেরিকানকে পেছনে ফেলে এসেছে, তাদের সবার জন্য আমরা লড়াই করব।’
তবে এই জয়ের পথ মোটেও সহজ ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে ব্যাপক ইসলামবিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের মতো এত প্রকাশ্য, সরব ও গ্রহণযোগ্য ইসলামবিদ্বেষ আমি আগে কখনো দেখিনি। এটা শুধু নিউ জার্সিতে নয়, সারা দেশেই। এটা সবসময়ই ছিল, কিন্তু এখন এটি উন্মুক্ত, অনুমোদিত ও ভয়ংকর এবং আমার পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আমার আনুগত্য ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’
হামাওয়ির প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল ‘বোমা নয়, স্বাস্থ্যসেবা’। তার এই ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান অনেক ভোটারের মন জয় করেছে। ইয়োশি নামের এক ভোটার ও স্বেচ্ছাসেবক জানান, তৃণমূলের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই অর্থের দৌরাত্ম্যকে হারিয়ে এই জয় এনে দিয়েছে। তবে হামাওয়ির এই অবস্থানের কারণে ডানপন্থী ও ইসরায়েলপন্থীদের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে। মে মাসে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক নিবন্ধে তার সাথে দণ্ডিত মুসলিম ধর্মনেতা ওমর আবদেল রহমানের চিন্তাধারার সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা করেছিল। কারণ ১৯৯৫ সালে ওই ধর্মনেতার বিচারে হামাওয়ি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
তবে এসব সমালোচনাকে গায়ে মাখেননি হামাওয়ি। তিনি বলেন, ‘তারা সবচেয়ে খারাপ কী করতে পারে? আমাকে গালি দেবে, আক্রমণ করবে? আমি এর চেয়েও অনেক খারাপ কিছু দেখেছি।’
অ্যাডাম হামাওয়ি নিউ জার্সিতে মিশরীয় অভিবাসী মা-বাবার কাছে বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনার খরচ জোগাতে তিনি নিউ জার্সি আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। নাইন-ইলেভেন হামলার পর গ্রাউন্ড জিরোতে তিনি আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। পরবর্তীতে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কমব্যাট ট্রমা সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইলিনয়ের এক সিনেটরের জীবন বাঁচিয়েছিলেন তিনি। গত ৩০ বছর ধরে তিনি সুদান, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, তুরস্ক ও জর্ডানের মতো যুদ্ধ ও দুর্যোগকবলিত এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন।
বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় গাজার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাঝে ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হন। আগামী জানুয়ারিতে কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে ওয়াশিংটনে গিয়ে শ্রমিক শ্রেণি ও যুদ্ধবিরোধী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই চিকিৎসক।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই





