জেড নিউজ ডেস্ক:
ভোটের রাজনীতির কারণে জামায়াত আমির আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখান বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এটিই আওয়ামী লীগের বিচারের পথে বড় বাধা বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কারণে জামায়াত আমিরকে জাতীয় সংসদে ক্ষমা চাইতে বলেন রাশেদ খান।
আজ মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করেন জামায়াতের আমির। মূলত ভোটের রাজনীতির কারণে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখান।
আর এটিই হয়ে যায় আওয়ামী লীগের বিচারের পথে বড় বাধা।’
এরপর ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ নরমালাইজড হয়ে যায় বলে দাবি রাশেদ খানেন। তিনি বলেন, ‘এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা বলা শুরু করেন, যারা আওয়ামী লীগ করতেন, তারা জামায়াতে যোগদান করলে পুরো দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে, বিভিন্ন জায়গায় গোপনে সব আওয়ামী লীগ রাতারাতি জামায়াত হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সার কারণে আওয়ামী অপরাধীদের সঠিক বিচার হয়নি বলেও দাবি করেন রাশেদ। তিনি বলেন, ‘আর অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে যায়। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সেই বেপরোয়া আচরণ পরিলক্ষিত হলো। আওয়ামী লীগ যাস্ট সুযোগের অপেক্ষায় আছে। জামায়াত যতই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করে ভোটব্যাংক বাড়াতে চেষ্টা করুক না কেন, ওরা কখনো কামব্যাক করতে পারলে সবার আগে জামায়াতকে দিয়েই প্রতিশোধ শুরু করবে।
আওয়ামী ব্যবসায়ী ও নেতাদের থেকে লং মার্চ বা কর্মসূচির জন্য অর্থ ও প্রাডো গাড়ি নিয়ে পুনর্বাসন বন্ধ করতে জামায়াত-এনসিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ও আওয়ামী অপরাধীদের বিচারে সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। যেহেতু জামায়াতের আমির গণ-অভ্যুত্থানের পরপর আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং জামায়াতের আমিরের উচিত, সংসদে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রস্তাব করা।’
বিএনপি সরকার বিচার করবে, আর ভোটের জন্য জামায়াত তলে তলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে চাইলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসবে বলেও ফেসবুক পোস্টের শেষে জানান রাশেদ খান।




