spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

রবের ইচ্ছা ছাড়া বান্দা ভালো কাজ করতে সক্ষম নয়

জেড নিউজ , ঢাকা :

মানুষ ভালো হতে চায়, পাপ থেকে বাঁচতে চায়, নামাজে মনোযোগী হতে চায়, কোরআনের পথে চলতে চায়। কিন্তু শুধু ইচ্ছা করলেই কি মানুষ সত্যিকার অর্থে ভালো হয়ে যেতে পারে? বাস্তবতা হলো—বান্দার চেষ্টা প্রয়োজন, কিন্তু সেই চেষ্টাকে সফল করার তাওফিক একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

কত মানুষ সত্যের কথা জানে, অথচ সত্যের পথে হাঁটে না! কত মানুষ নামাজের গুরুত্ব বোঝে, কিন্তু নামাজের প্রতি মন বসে না! আবার এমন মানুষও আছে, যে একদিন পর্যন্ত গাফেল ছিল; হঠাৎ আল্লাহ তার অন্তর খুলে দিয়েছেন—সে তাওবা করেছে, নামাজ ধরেছে, কোরআনের দিকে ফিরে এসেছে। এটাই আল্লাহর তাওফিক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা ইচ্ছা করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

’ (সুরা : ইনসান, আয়াত : ৩০)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, মানুষের ইচ্ছা ও চেষ্টা বাস্তব; কিন্তু তার ওপরও আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতা সর্বময়।

তাওফিকভালো কাজের সবচেয়ে বড় নিয়ামত

কোনো মানুষ নামাজ পড়ছে—এটা শুধু তার যোগ্যতার ফল নয়; বরং আল্লাহ তাকে নামাজের তাওফিক দিয়েছেন। কেউ কোরআন পড়ছে, মানুষের উপকার করছে, হারাম থেকে নিজেকে বাঁচাচ্ছে—এসবই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এ কারণেই একজন মুমিন নিজের নেক আমল নিয়ে অহংকার করে না।

সে বরং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হয় এবং বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনি তাওফিক না দিলে আমি কিছুই করতে পারতাম না।’ আল্লাহ বলেন, ‘আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে। তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যা তোমার উপকারে আসে, তা অর্জনে আগ্রহী হও; আল্লাহর সাহায্য চাও এবং অক্ষম হয়ে বসে থেকো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.)-কে বলেছেন, ‘আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভান্ডারসমূহের একটি ভান্ডারের কথা বলে দেব না? তা হলো—‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

’  অর্থ্যাৎ ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।’ (সহিহ মুসলিম)

আল্লাহর ওপর নির্ভরতা মানুষকে উদ্যমী বানায়

কেউ যদি বলে, ‘সবই তো আল্লাহর ইচ্ছা, তাই আমি চেষ্টা করব না’—এটি ইসলামের শিক্ষা নয়। আল্লাহ আমাদের ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন, বিবেক দিয়েছেন, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝিয়েছেন এবং সঠিক পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো সাধ্যমতো চেষ্টা করা, দোয়া করা এবং ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রিয়—যদিও উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার উপকারে আসে, তা অর্জনে আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং দুর্বল হয়ে বসে থেকো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)

ভালো কাজ করার পর করণীয়

মানুষ যখন কোনো ভালো কাজ করে, তখন শয়তান তাকে দুটি পথে ধ্বংস করতে পারে—প্রথমত, তাকে ভালো কাজ থেকেই বিরত রাখতে পারে; দ্বিতীয়ত, ভালো কাজ করার পর তার অন্তরে অহংকার ঢুকিয়ে দিতে পারে। তাই একজন মুমিন নামাজ পড়ে বলবে—‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে নামাজ পড়ার তাওফিক দিয়েছেন।’ কারণ বান্দার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—সে নিজের শক্তির ওপর নয়, রবের রহমতের ওপর নির্ভর করতে শিখেছে।

জীবনে অনেক সময় মানুষ চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায় না। তখন হতাশ হয়ে বলে—‘আমি যদি এটা করতাম’, ‘আমি যদি ওটা না করতাম’—ইত্যাদি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন অবস্থায় ‘যদি’ নিয়ে পড়ে থাকতে নিষেধ করেছেন এবং আল্লাহর তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি তোমার কোনো বিপদ আসে, তখন এ কথা বলো না—‘আমি যদি এমন করতাম, তাহলে এমন হতো’; বরং বলো—‘এটি আল্লাহর তাকদির, তিনি যা ইচ্ছা করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)

মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—সে নিজের শক্তিকে নিজের বলে মনে করে। অথচ একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বোঝা যায়, শ্বাস নেওয়া থেকে শুরু করে ইবাদতের তাওফিক পাওয়া—সবই আল্লাহর দান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়