জেড নিউজ , ঢাকা :
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেনি এমন কথা মানুষকে বলে, কিয়ামতের দিন এমন ব্যক্তিকে দুটি যবের দানাকে জোড়া লাগানোর জন্য বাধ্য করা হবে; কিন্তু সে তা করতে পারবে না। যে ব্যক্তি কোনো গোত্রের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও গোপনভাবে কান লাগিয়ে তাদের কথা শোনে, কিয়ামতের দিন এমন ব্যক্তির কানের গভীরে সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।
আর যে ব্যক্তি কোনো জীব-জন্তুর ছবি আঁকে, আখিরাতে তাকে আজাব দেওয়া হবে। আর তাতে রুহ দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে; অথচ সে তাতে রুহ বা জীবন দিতে পারবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭০৪২, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১০৫৪৯)
হাদিসের শিক্ষা ও বিধান
১. মিথ্যা স্বপ্নের বর্ণনা দেওয়া ভয়াবহ অপরাধ। কেউ স্বপ্নে যা দেখেনি, তা দেখেছে বলে মানুষের কাছে বলা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এর জন্য কিয়ামতের দিনের কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তাই স্বপ্নের ব্যাপারে সত্যবাদিতা অবলম্বন করা জরুরি।
২. সব কথা বলা জায়েজ নয়। মানুষের মনোরঞ্জন বা নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য বানানো কথা, কল্পিত ঘটনা কিংবা মিথ্যা কাহিনি প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. অন্যের গোপন কথা শোনা নিষিদ্ধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপছন্দ করা সত্ত্বেও গোপনে তাদের কথাবার্তা শোনা ইসলামে নিন্দনীয়। কারও ব্যক্তিগত আলাপ আড়ি পেতে শোনা তার গোপনীয়তা ও অধিকার লঙ্ঘন করে।
৪. ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। ইসলাম মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত জীবন ও গোপনীয়তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।কারও অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান বা শ্রবণ করা উচিত নয়।
৫. কৃতকর্মের পরিণতি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। হাদিসে কিয়ামতের শাস্তির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে—দুনিয়ায় ছোট মনে হলেও কোনো গুনাহ আল্লাহর কাছে তুচ্ছ নয়। মানুষের কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে।
৬. শিল্প ও ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও শরিয়তের বিধান বিবেচনা করতে হবে। হাদিসে প্রাণীর ছবি অঙ্কনের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। বিশেষ করে প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ অবয়ব, ছবি ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে ইসলামী বিধান সম্পর্কে জেনে চলা উচিত।
৭. বিনোদনের জন্যও হারাম কাজ করা যাবে না। ‘শুধু মজা করার জন্য’ মিথ্যা বলা, অন্যের গোপন কথা শোনা বা নিষিদ্ধ কাজ করা বৈধ হয়ে যায় না। একজন মুমিনের বিনোদনও আল্লাহর বিধানের সীমার মধ্যে হওয়া উচিত।
এই হাদিস আমাদের শেখায়—যা দেখিনি তা বলা যাবে না, যা শোনার অধিকার নেই তা গোপনে শোনা যাবে না এবং শরিয়তে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা দুনিয়ার সামান্য আনন্দ বা কৌতূহলের বিনিময়ে আখিরাতের কঠিন শাস্তি গ্রহণ করা কোনো বুদ্ধিমান মুমিনের কাজ নয়।




