spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

যেসব কাজ হজের মহিমা ক্ষুণ্ণ করে

জেড নিউজ, ঢাকা:

হজ বান্দার প্রতি স্রষ্টার হক। ঈমানের আলোকিত নিদর্শন। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, মানুষের ওপর আল্লাহর বিধান ওই ঘরের হজ করা, যার আছে সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য। (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)

সুতরাং হজ আল্লাহর বিধান, আল্লাহর হক। মেহেরবান আল্লাহ এ বিধান কত সহজ করে দিয়েছেন! শুধু সামর্থ্যবানদের জন্য তা ফরজ। তাও আবার সারাজীবনে মাত্র একবার করা।

হজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ বান্দার সারা জীবনের গোনাহ মাফ করে দেন। তবে শর্ত হলো, হজের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

হজের মহিমা ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কাজগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

. অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকা

হজের ইহরাম বেঁধে ফেলার পর যেসব কাজ নিষিদ্ধ, তার মধ্যে একটি হলো অশ্লীলতায় জড়ানো। সাধারণত হজপালনকারীরা দৃশ্যমান কোনো অশ্লীলতায় না জড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছু কাজ তাদের অনেককে সূক্ষ্মভাবে অশ্লীলতায় লিপ্ত করে ফেলে, তা তারা হয়তো অনুভবও করেন না।

যেমন-হজের ইহরাম অবস্থায় স্মার্টফোন, ট্যাব অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কোনো না কোনো সময় এমন কিছু দেখে বসে, যা দেখা তাঁর জন্য হারাম ছিল, যাতে অশ্লীলতা ছিল। অথবা অডিও-ভিডিও কলে তার পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অজান্তে এমন শব্দ প্রয়োগ করে বসলেন, যে শব্দ ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করার সুযোগ নেই।

. নজরের হেফাজত করা

হজপালনকারীদের জন্য হজের মহিমা রক্ষা করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি তৈরি হয় নজরের হেফাজত দিয়ে। হজপালনকারীরা বিমানবন্দরের রিসেপশন থেকে শুরু করে উড়োজাহাজযোগে সৌদি আরব পৌঁছা এবং সেখানকার বিমানবন্দর পার হওয়া পর্যন্ত পদে পদে তার সামনে এমন সব মানুষ থাকবে, যাদের দিকে তাকানো তার জন্য হারাম ছিল। মুমিনের উচিত, এই কঠিন মুহূর্তগুলোয় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে থাকা।

. গিবত থেকে বেঁচে থাকা

হজের সফরেও অনেক সময় মানুষ তাদের চিরাচরিত অভ্যাস থেকে বের হতে পারে না, ফলে সেখানে গিয়েও নিজের অজান্তেই মাঝেমধ্যে এজেন্সি, সহযাত্রী ইত্যাদির বিরুদ্ধে অহেতুক গিবতে লিপ্ত হয়। অথচ গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য গোনাহ। (তাবরানি)

. অহংকার না করা

হজের সফরে কথায়, কাজে বা আচরণে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা অহংকারের পর্যায়ে চলে গিয়ে এই ইবাদতের মহিমা নষ্ট করে দেবে। কেননা মহান আল্লাহ অহংকারীকে ভালোবাসেন না। (সুরা নাহল : ২৩)

. সময় নষ্ট না করা

হজের সফরে প্রতিটি মুহূর্তই জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়, তাই একটি মুহূর্তও যেন অনর্থক না কাটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। পবিত্র কোরআনে সফল মুমিনদের গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে।’

. লোক দেখানো ইবাদত

অনেকে আবেগ সামলাতে না পেরে সেখানে এত বেশি ফটো সেশন করে, যা উপস্থিত হাজিদেরও বিরক্তের কারণ হয়। তাই হজের সফরে কারণ ছাড়া এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

. ঝগড়া থেকে দূরে থাকা

হজের সফরে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। তাই সেখানে অহেতুক তর্কবিতর্ক, অমূলক অভিযোগ, অসহিষ্ণুতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

উল্লিখিত কাজগুলো বাদ দিয়ে হজের সফরে সর্বোচ্চ তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ প্রত্যেকের মনের অবস্থা জানেন, যার তাকওয়া যত উন্নত হবে, তার হজও তত গ্রহণযোগ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়