জেড নিউজ, ঢাকা:
ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নিমের ব্যবহার বেশ পুরোনো। নিম পাতায় থাকা কিছু যৌগের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত তেলতেলে ত্বকের ক্ষেত্রে নিমযুক্ত প্রসাধনী অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে নিম সব ধরনের ত্বকে সমানভাবে মানানসই নয়। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি নিম বা নিমের তেল ব্যবহার করলে জ্বালা কিংবা অস্বস্তি হতে পারে। তৈরি নিমের সাবান পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করুন। বাজারের সাবানের পাশাপাশি চাইলে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন নিমের সাবান। খুব বেশি উপকরণেরও প্রয়োজন নেই। তবে ঘরে তৈরি সাবানে তাজা নিমপাতা ব্যবহারের কারণে এর সংরক্ষণক্ষমতা বাজারের সাবানের মতো নাও হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে তৈরি করে পরিষ্কার ও শুকনো জায়গায় রাখা ভালো।
যা যা লাগবে
২৫০ গ্রাম গ্লিসারিন সাবান বেস, ২৫ থেকে ৩০টি তাজা নিমপাতা, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, ২ থেকে ৩টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল এবং ৪ ফোঁটা নিম এসেনশিয়াল অয়েল।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে নিমপাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে দিয়ে পাতাগুলো মিহি করে পেস্ট তৈরি করুন। প্রয়োজন না হলে এতে পানি মেশাবেন না।
এবার নিমপাতার পেস্টের সঙ্গে আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে ভেতরের তেল বের করে মিশ্রণে দিন। সবশেষে কয়েক ফোঁটা নিম এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করে উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে রাখুন।
অন্যদিকে গ্লিসারিন সাবান বেস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। ডাবল বয়লার পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে সাবান বেস গলিয়ে নিতে পারেন। মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করলে অল্প অল্প সময় করে গরম করুন, যাতে অতিরিক্ত গরম না হয়ে যায়।
সাবান বেস পুরোপুরি গলে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে তাতে তৈরি করা নিমের মিশ্রণ যোগ করুন। দ্রুত নেড়ে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর তরল মিশ্রণটি পরিষ্কার সাবানের ছাঁচে ঢেলে দিন।
সাবানটি সম্পূর্ণ শক্ত হওয়ার জন্য ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভালোভাবে জমে গেলে ছাঁচ থেকে বের করে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যবহারের আগে সাবানটি পরিষ্কার ও শুকনো অবস্থায় সংরক্ষণ করুন এবং দীর্ঘদিন রেখে ব্যবহার না করাই ভালো।
ব্যবহারের আগে অবশ্যই পরীক্ষা করুন
ঘরে তৈরি কোনো সাবান সরাসরি মুখে বা পুরো শরীরে ব্যবহার না করাই ভালো। প্রথমে হাতের ভেতরের অংশ বা বাহুর ছোট একটি জায়গায় অল্প করে লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লালচে ভাব, জ্বালা, চুলকানি, ফুসকুড়ি বা অন্য কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বক, একজিমা বা ত্বকে আগে থেকেই কোনো সমস্যা থাকলে নিমের সাবান ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ত্বক পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাও জরুরি।




