আমিরুল ইসলাম কাগজী:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এমন একটি দিন, যার তাৎপর্য কেবল অতীতের একটি ঘটনাকে স্মরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা ও রাষ্ট্রের নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে যে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল, তার স্মৃতি আজও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অনুপ্রেরণার উৎস। ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালি সেই ঐতিহাসিক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত কর্মসূচি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সার্বভৌমত্ব র্যালি।
প্রধানমন্ত্রী কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে র্যালির উদ্বোধন করেই দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। কাকরাইল, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, বাংলামোটর ও ফার্মগেটসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করে র্যালিটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছায়।
এই পদযাত্রার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বেরিয়ে জনতার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এই দৃশ্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একজন সরকারপ্রধানের রাজপথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া কেবল দৃশ্যমান অংশগ্রহণ নয়; এটি জনসম্পৃক্ত রাজনীতিরও একটি প্রতীকী প্রকাশ।
ফলে ৭ নভেম্বরের এই র্যালি কেবল দলীয় কর্মসূচির সীমায় আবদ্ধ থাকেনি; বরং জাতীয় ইতিহাস, রাজনৈতিক আবেগ এবং জনসম্পৃক্ততার সম্মিলনে একটি স্মরণীয় আয়োজনের রূপ পেয়েছে।
১৯৭৫: রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বুঝতে হলে ফিরে তাকাতে হয় ১৯৭৫ সালের অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায়।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনৈতিক সংকট এবং পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে নানা বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর সংকটের সূচনা ঘটে। পরবর্তী কয়েক মাসে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল,বিশেষ করে ৩ নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের ক্ষমতা গ্রহণ দিয়ে শুরু হয় সামরিক নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব।একই সময়ে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার পর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট অস্থিরতা দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত হয় সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান ও সংহতির ঘটনা। সেনাবাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এই ঘটনাকে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার অনুসারীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পর সেই স্বাধীনতাকে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বে রূপান্তর করা ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। সার্বভৌমত্বের অর্থ শুধু একটি স্বাধীন ভূখণ্ড নয়; এর অর্থ নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা।কিন্তু ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর যে সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিল তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সেই মর্যাদা রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিল।স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোথাও যেন অদৃশ্য শক্তির ছায়া পড়তো।৭নভেম্বরের বিপ্লবের পর পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন ঘটে ক্ষমতা গ্রহণকারী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দৃঢ়তায়।
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব এখানেই। এই দিনের স্মৃতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়কে বিদেশি প্রভাবমুক্ত রাখার আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক, চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রবণতা দেখা যায়। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব লাভ করে।
এই পরিবর্তনকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অনুসারীরা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির বিকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তাঁদের দৃষ্টিতে, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন সে নিজের স্বার্থে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
৭ নভেম্বরের চেতনা এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক বার্তা
২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সার্বভৌমত্ব র্যালির রাজনৈতিক তাৎপর্য এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই নিহিত।
নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত তাঁর পদযাত্রা ছিল একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে বর্তমান রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের সামনে ৭ নভেম্বরের ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একেক রাজনৈতিক শক্তি একেক ঐতিহাসিক ঘটনাকে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে ব্যাখ্যা করেছে। ফলে ৭ নভেম্বরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনকে জাতীয় ইতিহাসের অংশ হিসেবে যথাযথভাবে উপলব্ধি করা এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই র্যালি সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। রাজপথে মানুষের অংশগ্রহণ, জাতীয় পতাকার উপস্থিতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রাজনৈতিক আবেগের প্রকাশ—সব মিলিয়ে কর্মসূচিটি একটি শক্তিশালী প্রতীকী তাৎপর্য বহন করেছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা: অতীতের শিক্ষা, ভবিষ্যতের দায়িত্ব
একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, সীমান্ত সমস্যা, পানিবণ্টন, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত, চীন, জাপান,যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য। কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা নয়, আবার কোনো রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ নির্ভরতাও নয়—বরং সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।
এই জায়গায় ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনা বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
তবে সার্বভৌমত্বের প্রকৃত শক্তি শুধু রাজনৈতিক স্লোগানে নয়, বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন এবং জনগণের ঐক্যের মধ্যেও নিহিত।
একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করা, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের আস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত করা প্রয়োজন।
স্মরণীয় পদযাত্রা, ঐতিহাসিক অঙ্গীকার
২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সার্বভৌমত্ব র্যালি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে জনতার সঙ্গে তাঁর অংশগ্রহণ, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে কর্মসূচিটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক দৃশ্যপট তৈরি করেছে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের স্মৃতি এবং ২০২৬ সালের সার্বভৌমত্ব র্যালি—এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস ও বর্তমানের একটি প্রতীকী সংযোগ। অতীতের রাজনৈতিক পরিবর্তন যেমন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণ করা।
৭ নভেম্বর তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক দিবস নয়; এটি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা এবং জনগণের ঐক্যের প্রশ্নে একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০২৬ সালের সার্বভৌমত্ব র্যালি সেই অঙ্গীকারকে রাজপথে দৃশ্যমান করেছে। এই পদযাত্রার প্রকৃত ঐতিহাসিক মূল্যায়ন নির্ভর করবে আগামী দিনে বাংলাদেশ কতটা স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অবিচল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে তার ওপর।
৭ নভেম্বরের চেতনা যদি রাষ্ট্রীয় নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এই দিবসের স্মৃতি কেবল অতীতের গৌরব হয়ে থাকবে না; বরং ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্যও হয়ে উঠবে এক অনুপ্রেরণার উৎস।





